শাহজাহান-কামরুলের অপসারণসহ নাস্তিক ও মুরতাদকে বয়কটের আহ্বান আহমদ শফী’র

Shofi-pressহাটহাজারী প্রতিনিধি: নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান এবং খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণ ও বিচার দাবি করেছেন হেফাজত আমীর শাহ আহমদ শফী। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান এবং খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ‘কওমি মাদরাসার শিক্ষা ও ছাত্রদের সম্পর্কে’ চরম বিদ্বেষপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ এনে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী। পাশাপাশি দৈনিক ইত্তিফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমীমা হোসেনের ওয়াজ, তাবলীগ ও আযান বিরোধী বক্তব্যেরও তীব্র নিন্দা এবং বিচার দাবি করে আলেম সমাজ ও মুসলমানদের প্রতি সকল ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদি ও মুরতাদকে সামাজিক বয়কটের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এরাই অন্যায়ভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে একের পর এক আঘাত হেনে মুসলমানদেরকে চরমপন্থার দিকে ঠেলে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে এদের প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বুধবার সংবাদপত্রে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বলেছেন, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম গত ২১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে আয়োজিত এক সম্মেলনে এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান গত ২২ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকা মহানগরীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কওমি মাদরাসা শিক্ষা ও ছাত্রদেরকে লক্ষ্য করে চরম উস্কানীমূলক অযৌক্তিক বক্তব্য রেখেছেন। তাদের বক্তব্যে জাতির সামনে স্পষ্ট হয়ে গেছে, তারা এ দেশ থেকে মাদরাসা শিক্ষা তথা ইসলামী শিক্ষা ধ্বংস করে সমাজ ও দেশ থেকে ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় চেতনাবোধকে মুছে দিতে চাচ্ছেন। দীর্ঘ দিন থেকে তারা দুই জনসহ আরো কয়েকজন মন্ত্রী থেমে থেমে ক্বওমী মাদরাসা শিক্ষা বিরোধী বক্তব্য দিয়ে উলামা-মাশায়েখ, মাদরাসা ছাত্র ও তৌহিদী জনতার অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে যাচ্ছেন।
হেফাজত আমীর বলেন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীর মাদরাসা বিরোধী বক্তব্যের সঙ্গে ধারাবাহিকতা রেখে ২৩ জানুয়ারি আরেক মন্ত্রীর স্ত্রী দৈনিক ইত্তিফাক সম্পাদক তাসমীমা হোসেন কর্তৃক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র কর্তৃক আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ওয়াজ, তাবলীগ ও আযান বিরোধী মারাত্মক ধর্ম অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন। এমন মারাত্মক ইসলাম অবমাননাকর বক্তব্য কোন অমুসলিম দেশেও দেখা যায়নি। তাদের সকলের বক্তব্য একই সূত্রে গাঁথা। ইসলামী শিক্ষা তথা মাদরাসা শিক্ষা ও মুসলিম আদর্শ বিরোধী যে কোন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি দেশের উলামা-মাশায়েখ, ইসলামী নেতৃবৃন্দ ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষা তথা ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন ধরেই উলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে যে, সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাসের ধারা বিলোপ, রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি এবং ধর্মহীন শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মূলতঃ সরকার এদেশে নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী ও পরিবেশ মন্ত্রীর স্ত্রীসহ আরো কয়েক মন্ত্রীর ধারাবাহিক ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আদর্শ বিরোধী বক্তব্যের বিরুদ্ধে সরকারের কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় এমন আশঙ্কা আরো জোরালো হয়েছে। হেফাজত আমীর মন্ত্রীসভা থেকে অভিযুক্ত দুই মন্ত্রীকে অপসারণ করে ইত্তেফাকের সম্পাদকসহ তাদের তিন জনকেই বিচারের কাঠগড়ায় হাজির করানোর জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে কঠোর আইন পাশ করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের লাগামের রাশ টেনে ধরুন। তিনি বলেন, জনগণের কাছে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে, তারা ইসলামী চেতনাবোধ মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত নাস্তিক্যবাদিদের সহযোগী হয়ে কাজ করছে না।
বিবৃতিতে হেফাজত আমীর দেশের আলেম সমাজ, মসজিদের ইমাম-খতীবসহ সকল ইসলামী নেতৃবৃন্দ ও মুসলমানদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আল্লাহ-রাসূলের অবমাননা, মাদরাসা শিক্ষা, উলামা-মাশায়েখ এবং ইসলামী আদর্শ ও চেতনা বিরোধী বক্তব্য, বিবৃতিদাতাসহ সকল নাস্তিক্যবাদি, মুরতাদ ও তাদের সহযোগীদেরকে সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ বয়কট শুরু করুন। তাদের পারিবারিক কোন অনুষ্ঠানে কেউ শরীক হবেন না। কোন আলেম তাদের বিয়ে পড়াবেন না। তাদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে কেউ আবদ্ধ হবেন না। কোন আর্থিক লেন-দেন, ব্যবসায়ীক সম্পর্ক করবেন না। তারা মারা গেলে তাদের জানাযায় কোন আলেম ও সাধারণ মুসলমান শরীক হবেন না। এটা ঈমানের ন্যূনতম চাহিদা।
হেফাজত আমীর ধর্ম অবমাননা বিরোধী কঠোর আইন পাশসহ নাস্তিক্যবাদ ও ইসলাম বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলতে হেফাজতের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম, মসজিদের খতীব ও ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান।