শিক্ষার্থীদের রোদে দাঁড় করিয়ে সেতুমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা

223487_1ঢাকা: কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে প্রখর রোদে দাঁড় করিয়ে রেখে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুরে আশুলিয়ার ইউনিক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রিজিড পেভমেন্টের উদ্বোধন করতে আসলে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা।

আশুলিয়ার বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কের ইউনিক এলাকায় মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর ক্লাস বন্ধ রেখে প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এতে প্রচণ্ড গরমে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসময় তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আশুলিয়া আব্দুল্লাপুর-বাইপাইল সড়কের ইউনিক এলাকায় বেলা সাড়ে ১১ টায় রিজিড পেভমেন্টের উদ্বোধন করার কথা ছিলো সেতুমন্ত্রীর। এ উপলক্ষে মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা দেওয়ার জন্য সওজ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বেলা ১১টা থেকে ক্লাস বন্ধ রেখে টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী মহাসড়কের দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেয়।

তবে যথাসময়ে না এসে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ইউনিক এলাকায় পৌঁছেন ওবায়দুল কাদের। এসময় দেড় ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে থাকা কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। এর পর মন্ত্রী ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের রিজিড পেভমেন্ট-এর উদ্বোধন করেন।

এদিকে প্রায় দেড় ঘন্টা মহাসড়কের উপর দাঁড়িয়ে থেকে প্রচণ্ড রোদে পুড়ে ওই স্কুলের কোমলমতী প্রায় ১০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদেরকে স্কুলের ভেতরে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পপি আক্তার দ্র রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানায়, প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে তদের ক্লাস শুরু হয়। শনিবার স্কুলে প্রবেশের পরই ক্লাস বন্ধ রেখে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ তাদেরকে মাহসড়কের উপর দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য বলেন।

অসুস্থ শিক্ষার্থী শাকিলা, রিয়া, স্মৃতি ও আফসানাসহ একাধিক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলে, ক্লাস বন্ধ করে শিক্ষকরা তাদেরকে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে মহাসড়কের উপর দাঁড় করিয়ে রাখে। প্রায় দেড় ঘণ্টা মহাসড়কের উপর দাঁড়িয়ে থাকার কারণে প্রচণ্ড গরমে ১০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরে তাদেরকে মাথায় পানি দিয়ে ফ্যানের নিচে বসিয়ে দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘তাদের স্কুলের সামনে একটি ফুটওভার ব্রিজ প্রয়োজন। আর এর জন্য সড়ক ও জনপদের ঢাকা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মকর্তা সবুজ উদ্দিনের সাথে পরামর্শ করলে তিনি স্কুলের শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা দেওয়ার জন্য বলেন। তার কথামতো শিক্ষার্থীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে প্রচন্ড রোদে পুড়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে তিনি জানান।

এব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা না বলে দৌঁড়ে পালিয়ে যান।

পরে সড়ক ও জনপদের নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ উদ্দিনের মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এব্যাপারে সাভার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাহারিয়ার মেনজিস জানান, শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কারণে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।