হাসপাতাল পর্যবেক্ষণ ও ডাক্তারদের শাসনে রাখুনঃ সংসদে এমপিদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Nasim-3নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এমপিদের নিজ এলাকার সরকারি হাসপাতাল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। অনেক ডাক্তার ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করছেন জানিয়ে তিনি ডাক্তারদের শাসনে রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্যরা স্থানীয় সরকার প্রধান। পদাধিকার বলে হাসপাতালগুলোর গর্ভনিং বোর্ডের চেয়ারম্যানও এমপিরা। তাই এমপিদের হাসপাতাল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

নাসিম বলেন, অনেক ডাক্তার হাসপাতালে থাকেন না, তারা ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করছেন। এতে রোগীরা ভুক্তভোগী হচ্ছেন। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি রোগী এমপিদের ভোটার।
ফরহাদ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে শিশু হাসপাতাল স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে।

কাজী রোজীর অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অসচেতনতার কারণেই ব্রেস্ট ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সারসহ নানাবিধ ক্যান্সারে মহিলারা ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। লজ্জা ভেঙে তাদের এগিয়ে আসতে হবে, তাহলেই ক্যান্সার মুক্ত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সরকার বিনামূল্যে ক্যান্সার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ঘোষণা দিয়েছিল। তখন জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে ১৯৯ জন দরিদ্র মহিলা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েছেন। এদের মধ্যে ১৪১ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত বলে চিহ্নিত হয়েছে। তাদের সম্পূর্ণ ফ্রিতে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

একই প্রশ্নকর্তার অপর এক প্রশ্নের জবাবে নাসিম জানান, এখন থেকে ডাক্তার ও মেডিকেলের ছাত্রছাত্রীদের ড্রাগ মুক্ত হওয়ার অঙ্গিকার দিয়ে আসতে হবে বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মাদক মুক্ত হওয়ার সনদ না পেলে তাদের মেডিকেলে ভর্তি হতে দেয়া হবে না। পাশাপাশি ডাক্তারদের সার্টিফিকেট দিতে হবে তারা ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন বা ধূমপান করেন না। বেগম নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২৪৩টি সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে মোট ৯,১৯২টি আসন রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ৩১টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ৩,২১২টি আসন এবং ৬৬টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৫,৯৮০টি আসন রয়েছে। আসন সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে।

সুকুমার রঞ্জন ঘোষের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত বছরে (জানুয়ারি ২০১৫ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত) ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভেজাল ও অবৈধ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৫৫ লাখ ৫২,০০০ টাকা জরিমানা এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও ১০টি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করাসহ বিপুল পরিমাণ ঔষধ ধ্বংস করা হয়েছে।

এছাড়া গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি) যথাযথভাবে অনুসরণ  না করার জন্য এবং ওষুধ আইন লঙ্ঘনের কারণে উক্ত সময়ে ৫টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মানবহির্ভূত ওষুধ উৎপাদনের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সর্বমোট ৬৩টি পদের রেজিস্ট্রেশন সাময়িক বাতিল করা হয়েছে এবং ৯টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।