তাসমীমাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে: শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম

0001নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আযান ও ইবাদত নিয়ে কটূক্তি করায় দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমীমা হোসেনকে নিঃশর্তভাবে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে ওলামায়ে কেরাম বলেন, তাসমীমা হোসেনকে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। আযানকে শব্দ দূষণ বলার স্পর্ধা কোন ঈমানদার মেনে নিতে পারেনা। তাকে পুনরায় ঈমান নবায়ন করতে হবে। ঢাকার মেয়র কর্তৃক পরিবেশ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমীমা হোসেন ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর কলিজায় আঘাত দিয়ে এমন দায়িত্বহীন বক্তব্য রাখবেন তা কখনো বরদাশত করা যায় না।

তারা বলেন, তাসমীমা হোসেন গতকাল তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বটে কিন্তু তার দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি ইসলাম বিরোধী বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় দৈনিক ইত্তেফাক বর্জনসহ তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তাকে দাউদ হায়দার, তসলিমা নাসরিন ও কুলাঙ্গার আ. লতিফ সিদ্দিকীর করুণ পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

ওলামায়ে কেরাম আরো বলেন, আমরা সরকারের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অনুরোধ করব ৯৫ ভাগ মুসলমানের এদেশে যে কোন ধর্মীয় অনুভূতিতে যাতে কেউ আঘাত দিতে না পারে সে ব্যপারে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আমাদের এ প্রিয় মাতৃভূমিকে অস্থিতিশীল করতেই মাঝে মধ্যে নিত্য নতুন নাস্তিক মুরতাদরা ইসলাম ও ইসলামী মূল্যেবোধের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে পানি ঘোলা করতে চায়। কিছু দিন আগে রাজধানীর বাড্ডায় পবিত্র কুরআনে আগুন দেয়া, দেশের বিভিন্ন কর্ণারে কর্ণারে মহানবী (সা.) এর কুটূক্তি করা, কওমী মাদরাসা ও তাবলীগ জামাত নিয়ে বক্তব্য দেয়া, আযানকে শব্দ দূষণ বলার দুঃসাহস দেখানো এসবই কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং ইহা দেশি-বিদেশি ইসলাম বিদ্বেষী মহলের ধারাবাহিক চক্রান্তেরই অংশ। এ ব্যাপারে সরকারকে আইন করে মুরতাদদের শাস্তির বিধান জারি করতে আমরা জোর সুপারিশ করছি।

বিবৃতিদাতাগণ হলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি শাইখ আবদুল মোমিন, শীর্ষ আলেমেদ্বীন রাবেতা আলম আল-ইসলামীর স্থায়ী সদস্য ও সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, মাওঃ মোহাম্মাদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের আমির মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, খেলাফত আন্দোলনের প্রধান আমিরে শরীয়ত হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হজুর, অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী, ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, শাহতলীর পীর মাওঃ আবুল বাসার, ফরায়েজী আন্দোলনের আমির মাওলানা আব্দুল্লাহ মোঃ হাসান প্রমুখ।