চলমান ছাত্র আন্দোলনে সাংবাদিকদের উপরে হামলার প্রতিবাদে বিএফইউজের বিক্ষোভ

বিএফইউজের বিক্ষোভনিজস্ব প্রতিবেদক: নিরাপদ সড়কের দাবিতে কিশোর ছাত্র আন্দোলনে দায়িত্বপালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের যৌথ হামলার প্রতিবাদে ৫ আগস্ট এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে বিএফইউজে ও ডিইউজে। জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে আয়োজিত বিক্ষোভে সভাপতিত্ব করেন বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমীন গাজী। বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাব সাবেক সেক্রেটারি সৈয়দ আবদাল আহমদ, ডিইউজে সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, শনিবার রাজধানীর ঝিগাতলা এলাকায় ছাত্র বিক্ষোভের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সরকার দলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় অন্তত ৮জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এ ছাড়া একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রিয় ডটকমের কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে টিভি চ্যানেলগুলোর স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ডেইলী স্টারের ফটো সাংবাদিক শায়েল রেজা, সেলিম সাদমান ও প্রতিবেদক রফিকুল ইসলামকে ঝিগাতলায় সংবাদ সংগ্রহ ও ছবি তোলার সময় মারধোর করে থানায় নিয়ে ৪ঘণ্টা  আটকে রাখা হয় এবং তাদের ক্যামরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। একই পত্রিকার আরেক সাংবাদিক সুষ্মিতা সায়েন্স ল্যাবরেটরী মোড়ে লাঞ্ছিত হন সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে। এছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমের আরও অন্ততঃ ৪জন সাংবাদিক শনিবারের হামলায় আহত হয়েছেন। কর্তব্যরত সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বপালনে বাধা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিক নেতারা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সাংবাদিকদের হত্যা-নির্যাতন মামুলি ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারিদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের উত্তাল আন্দোলনের সময় সংবাদ পরিবেশনে বিধিনিষেধ আরোপ করে বেসকারি টেলিভিশনের কর্তৃপক্ষকে তথ্য মন্ত্রণালয় যে পত্র দিয়েছে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপের সমতুল্য। এতদিন অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ ও সেন্সরশীপের কবলে পড়ে এমনিতেই গণমাধ্যমজুড়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এখন সরাসরি এবং প্রকাশ্যে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সরকার স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছে।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।