ব্যাপক অনিয়ম, গোলাগুলি ও ভোট বর্জনের পরও তিন সিটির একটিতে বিশদল জয়ী

city_3cityনিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাপক কারচুপি, ব্যালট ছিনতাইসহ নানা অনিয়মের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দেশের তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। সিলেট, রাজশাহী ও বরিশালে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই, ব্যালট বইতে আগেই নৌকা প্রতিকে সিল মেরে রাখা, ভোটারদের হুমকী, বিএনপি ও বিরোধী প্রার্থীদের এজেন্টকে বের করে দেয়াসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হয়েছে বরিশাল ও রাজশাহীতে।

রাজশাহী এবং সিলেটে বিরোধী দল বিএনপির প্রার্থীরা অনিয়মের নানা অভিযোগ তুললেও তারা শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে ছিলেন। কিন্তু বরিশালে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার ভোটের মাঝপথে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘প্রশাসনের সামনে যে ঘটনা ঘটলো, বরিশালবাসী যা প্রত্যক্ষ করলো, এরপর আমরা আর বসে থাকতে পারি না। এই নির্বাচনকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’

এরপর বরিশালের আরো তিনজন মেয়র প্রার্থী – বাসদের মনীষা চক্রবর্তী, ইসলামী আন্দোলনের ওবাইদুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন নির্বাচন বর্জন করেন। তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর একতরফা নির্বাচন হয়েছে বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন।

রাজশাহীতে ভোট দিতে না পেরে একটি কেন্দ্রের সামনে অনেক ভোটার বিক্ষোভ করেছেন।

আরেকটি কেন্দ্রে দুপুরেই মেয়র পদের ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ঐ কেন্দ্রের সামনে ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত অবস্থান নিয়েছিলেন।

ভোট কেন্দ্রে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর এজেন্টকে থাকতে না দেয়া এবং জোর করে ব্যালট নিয়ে সিল মারাসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ এসেছে।

স্থানীয় সাংবাদিক আনোয়ার আলী বলেছেন, সকাল থেকেই নারী এবং পুরুষ ভোটারদের ভিড় তিনি দেখেছেন। কিন্তু কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকদেরই নিয়ন্ত্রণ তার চোখে পড়েছে।

‘এজেন্ট না থাকা, ব্যালট পেপার ফুরিয়ে যাওয়া এসব তো ছিলই। নৌকা মার্কার পক্ষেই বেশি জনসমাগম দেখা গেছে। কিন্তু অন্য কোন প্রার্থীর সমর্থকদের সেভাবে দেখা যায়নি’, বলেন তিনি।

সিলেট থেকেও নির্বাচনের একই চিত্র পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সাংবাদিক আহমেদ নূর জানিয়েছেন, একটি কেন্দ্রের ভিতরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থনে ব্যালট পেপারে একতরফা সিল মারার ঘটনার সময় পুলিশ সেখানে ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে।

তিনি বিভিন্ন কেন্দ্র বিএনপির মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদেরও দেখতে পাননি বলে জানিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, ভোট কেন্দ্রগুলোতে সকালে নারী-পুরুষের ভিড় থাকলেও বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পরে তাদের সংখ্যা একেবারেই কম ছিল।

সিলেট থেকে একজন নির্বাচন পর্যবেক্ষক শাহ শাহেদা আকতারও বলেছেন, বিভিন্ন দলের প্রার্থী থাকলেও একতরফা নির্বাচন হয়েছে বলে তার মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দুপুরের পর থেকেই কোনো কোনো কেন্দ্র একটি দলের এজেন্টদের পক্ষে চলে গেছে। আবার কোথাও কোথাও ভালো নির্বাচন হয়েছে। তবে বেশিরভাগ জায়গাতেই ছিল বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।’

তবে তিনটি সিটি কর্পোরেশনেই আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছেন।

তবে এত কিছুর পরও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সদ্য বিদায়ী মেয়র ও বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক প্রায় পাঁট হাজার ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছে।