অবশেষে চিকিৎসকদের আন্দোলন সাময়িক স্থগিত

Ctgনিজস্ব প্রতিবেদকঃ অবশেষে চার দিন ধরে চলা আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চট্টগ্রামের চিকিৎ​সকেরা। রোববার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শাহ আলম বীরোত্তম মিলনায়তনে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার এক সমাবেশে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি চিকিৎ​সক মুজিবুল হক খান বলেন, চট্টগ্রাম নগরের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ব্যক্তিগত চেম্বারে সেবা না দেওয়ার আন্দোলন তাঁরা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে করা মামলার ব্যাপারে সমাধানের আশ্বাস পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ওই সমাবেশে বক্তব্য দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাসিরউদ্দীন। তিনি রোগীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আন্দোলন বন্ধের জন্য চিকিৎ​সকদের প্রতি অনুরোধ জানান। তিন চিকিৎ​সকের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে তিনি বাদীপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন ও সমাধানের পথ বের করবেন বলেও আশ্বাস দেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার। তিনিও রোগীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আন্দোলন থেকে সরে আসার জন্য চিকিৎ​সকদের প্রতি অনুরোধ জানান।

টানা চতুর্থ দিনের মতো গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম মহানগরের বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগীদের সেবা মেলেনি। কেবল নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) কিংবা করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) সেবা দরকার এমন রোগীকে এসব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর বাইরে নতুন কোনো রোগী নেয়নি হাসপাতালগুলো। রোগীর চাপ বেড়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকেরা।

১০ জানুয়ারি নগরের সার্জিস্কোপ হাসপাতালে প্রসূতি মেহেরুন্নেছার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসক মাহবুবুল আলম ও শামীমা সিদ্দিকীর অবহেলা ছিল বলে অভিযোগ করেন নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা। তাঁদের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের আদালতে মামলাও হয়। মেহেরুন্নেছা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলামের ভাতিজি। এ ছাড়া একই দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক রানা চৌধুরীর বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে মামলা করেন রোগীর এক স্বজন। এরপর বুধবার বিকেল থেকে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে চিকিৎসকদের কর্মসূচি শুরু হয়।