ঢাকা, শনিবার, রাত ৪:০৪ মিনিট, তারিখ: ৫ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, ১০ই সফর, ১৪৪০ হিজরী
তাহের পরিবারকে লালমাটিয়ায় প্লট ও চাকরি দেয়া হয় জিয়ার নির্দেশেই | deshnews.net

deshnews.net

তাহের পরিবারকে লালমাটিয়ায় প্লট ও চাকরি দেয়া হয় জিয়ার নির্দেশেই

ফেব্রুয়ারি ১৬
অপরাহ্ন ১০:৪৪ মঙ্গলবার ২০১৬

002নিউজ ডেস্কঃ তাহেরের ফাঁসি ছিল একটা ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’। তবে এটা জিয়ার একক সিদ্ধান্ত ছিল না। এর পেছনে সামরিক বাহিনীর সব কর্মকর্তারই সায় ছিল। মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার তো দাবিই করেছিলেন, ফাঁসি না দিলে তিনি কোমরের বেল্ট খুলে ফেলবেন, অর্থাৎ সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেবেন। ওই সময় সেনাবাহিনীর কোন কর্মকর্তা তাহেরের পক্ষ নিয়েছিলেন বলে জানা যায় না। লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ তার সদ্য প্রকাশিত ‘বিএনপি সময়-অসময়’ শীর্ষক বইতে এসব কথা লিখেছেন। মহিউদ্দিন আহমদ আরও লিখেছেন, তাহেরের ফাঁসি নিয়ে জিয়ার মধ্যে অপরাধবোধ বা মর্মবেদনা থাকতে পারে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তার আদেশে তাহেরের পরিবারের জন্য ঢাকার লালমাটিয়ায় একটা আবাসিক প্লট বরাদ্দ করা হয়। তাহেরের স্ত্রী এবং তাহেরের বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে জিয়ার আদেশে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে চাকরি দেয়া হয়েছিল। তারা সেটি গ্রহণও করেছিলেন। তাহেরের বড় ভাই সার্জেন্ট (অব.) আবু ইউসুফ সামরিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। ৭ই নভেম্বর (১৯৭৫) অভ্যুত্থানের পর জলিল-তাহেরদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে যে সাজা দেয়া হয়েছিল, তাদের কাউকেই বেশি দিন জেলে থাকতে হয়নি। চার বছর না পেরোতেই আবু ইউসুফ ছাড়া পান। জাসদের সাধারণ সম্পাদক আ স ম আবদুর রবের ১০ বছরের সাজা হয়েছিল। তাকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে পশ্চিম জার্মানিতে চিকিৎসার জন্য যেতে দেয়া হয়।
সরকারি খরচেই জার্মানিতে রবের চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থায় রব খুশি ছিলেন না। বন থেকে ২৫শে সেপ্টেম্বর (১৯৭৯) তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে একটি চিঠি পাঠান। প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) এ এস এম মোস্তাফিজুর রহমানকেও তিনি চিঠির অনুলিপি দেন।
রব দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিম জার্মানিতে ছিলেন। ঢাকায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে ১৯শে ফেব্রুয়ারি (১৯৮০) এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রবের চিকিৎসার জন্য সরকারের পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
তাহেরের অনুজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং জাসদ-গণবাহিনীর ঢাকা নগরের কমান্ডার আনোয়ার হোসেনের ১০ বছরের সাজা হয়েছিল। তিনিও সাজার মেয়াদ অর্ধেক ভোগ করে ছাড়া পান। জিয়ার সঙ্গে জাসদের একটা সমঝোতার ফলেই সবাইকে এক এক করে ছেড়ে দেয়া হয়। অস্ত্র আইনের যাদের বিরুদ্ধে মামলা ছিল, তাদের অনেকেই সাধারণ ক্ষমা পেয়ে ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং জয়ী হন। আনোয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ফিরে পান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিতে আওয়ামীবিরোধী ‘গোলাপি’ দলে যোগ দেন। পরে জিয়াপন্থিরা ‘গোলাপি’ দল ভেঙে ‘সাদা’ দল বানালে আনোয়ার সাদা দলে যোগ দেন এবং ওই দলের সমর্থনে সিন্ডিকেট নির্বাচনে অংশ নেন। ১৯৯৬ সালে হাওয়া ঘুরে গেলে তিনি আওয়ামীপন্থি নীল দলে নিজেকে সমর্পণ করেন। আনোয়ার যখন সাদা দলের সংগঠক হন, তাঁকে সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক নেহাল করিম জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘যারা আপনার ভাইকে ফাঁসি দিল, আপনি তাদের সঙ্গে যান কীভাবে? আনোয়ার জবাব দিলেন, ‘অনেক কথা আছে, পরে বলব।’
জিয়াউর রহমানের যুদ্ধদিনের সাথি ছিলেন মেজর (পরে লে. জেনারেল, অবসরপ্রাপ্ত) মীর শওকত আলী। জিয়ার মৃত্যুর পর তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তার মতে, জিয়া ছিলেন স্বাধীনচেতা ও প্রখর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। তার আশপাশে মৌমাছির মতো অনেক চাটুকারের সমাবেশ ঘটেছিল। কিন্তু জিয়া চাটুকারিতা একদম পছন্দ করতেন না। এ প্রসঙ্গে মীর শওকত আলীর একটি লেখা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া যেতে পারে:
আমাদের জাতিগত স্বাধীনতা এখনো হয়নি। আমরা এখনো নিজেদের চেয়ে সাদা চামড়াদের বিশেষ খাতির করি। একজন ইউরোপিয়ান প্রেসিডেন্টকে দেখেন। তিনি নিজের ব্রিফকেস নিজে নিয়ে গাড়ির দরজা খুলে গাড়িতে উঠছেন। আমাদের এখানে দরজা খোলার জন্য চামচারা রীতিমতো কম্পিটিশন করে। আমাদের নেতা যাবেন, তার বক্তৃতার কপি আরেকজনের বগলে। তার সানগ্লাস আরেকজনের হাতে। স্কুলের বাচ্চারা সকাল থেকে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। লিডার বক্তৃতা দিতে যখন আসলেন, ততক্ষণে বাচ্চাগুলো রোদে পুড়ে কালো হয়ে গেছে। তাদের হাতের ফুল শুকিয়ে গেছে। নেতা দুর্নীতিবাজ হলেও তার লোকের অভাব হয় না। সেøাগান হয় ‘অমুক ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’। এই নেতা যখন স্টেজে দাঁড়ায়, সে নিজেও জানে না সে কী বলবে। তাকে আরেকজনে ফাইল খুলে দিতে হয়। বড়ই বিচিত্র যে, আমাদের নিতম্বের অবস্থানের ওপর আমাদের মানসম্মান নির্ধারিত হয়। চেয়ার নেওয়ার জন্য মারামারি দেখে এটাই মনে হয়। ইসরায়েলের কেবিনেটে দেখেন প্রাইম মিনিস্টারের সঙ্গে আলোচনা করতে করতে মিনিস্টারপ্রাইম মিনিস্টারের সামনের টেবিলে বসে পড়ছেন। আর আমাদের এখানে নেতার সামনে জড়সড় হয়ে থাকতে হয়। আমাদের এখানে এক ধরনের হীনমন্যতা আছে এবং স্বাধীন জাতির স্বাধীনতার অহংকারের জাগরণ এখনো হয়নি। দিস ইজ প্যাথেটিক অ্যান্ড ট্র্যাজিক। জিয়াউর রহমান আমাকে একদিন বলেছিলেন, মীর, যতদিন আমাদের দেশের দশ হাজার টাউট ও চামচা নিশ্চিহ্ন না হবে, ততদিন আমাদের কষ্ট থাকবে।

একই ধরণের সংবাদ

পাঠকের মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল একাউন্ট প্রকাশ করা হবে না
‘অবশ্যই প্রয়োজনীয়’ ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করা আছে *

ইউরোপের সংবাদ

ইতালিতে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা এ পর্যন্ত ২৪৭

ইতালিতে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা এ পর্যন্ত ২৪৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইতালির মধ্যাঞ্চলে গতকাল বুধবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা […]

অামেরিকা-কানাডার সংবাদ

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানার প্রতিবাদ কানাডা বিএনপি’র

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানার প্রতিবাদ কানাডা বিএনপি’র

কানাডা প্রতিনিধি:  নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা গ্রেফতারী পরোয়ানা প্রত্যাহার কর-কানাড[…]

মালয়েশিয়ার সংবাদ

মালয়েশিয়ায় মাদ্রাসায় আগুনে ২৫ জন নিহত

মালয়েশিয়ায় মাদ্রাসায় আগুনে ২৫ জন নিহত

নিউজ ডেস্ক:  মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। স্থা[...]

প্রবাসের আরো সংবাদ

No thumbnail available

লসএঞ্জেলেসে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমর্থনে সমাবেশ

নিউজ ডেস্ক : লস এঞ্জেলেস (ক্যালিফোর্নিয়া): নিরাপদ সড়কের দাবিতে বাংলাদেশে চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রত[...]

ইসলামী দল/সংগঠন

মাহমুদুর রহমানের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া ছাত্র মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল

মাহমুদুর রহমানের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া ছাত্র মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল

নিউজ ডেস্ক: বিশিষ্ট সাংবাদিক দৈনিক অামার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের উপর সন্ত্র[...]

বিনোদন

'আমার ডিভোর্সের কথাও আমি ভুলে গিয়েছিলাম'

'আমার ডিভোর্সের কথাও আমি ভুলে গিয়েছিলাম'

নিজস্ব প্রতিবেদক:  আলোচিত সমালোচিত মডেল ও অভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপির ডিভোর্স হয়ে গেছে বলে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে জানান তিনি।[...]
কলকাতা-ঢাকা নৌপথে ভারতের বিলাসবহুল জাহাজ

কলকাতা-ঢাকা নৌপথে ভারতের বিলাসবহুল জাহাজ

ঢাকা: কলকাতা থেকে ঢাকা যাতায়াত আরো উপভোগ্য করতে বিলাসবহুল জাহাজ
টিভিতে শো করে বোনের বিয়ে দেবেন কিম জং, আছে শর্তও

টিভিতে শো করে বোনের বিয়ে দেবেন কিম জং, আছে শর্তও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দেশনিউজ.নেট : উত্তর কোরিয়ার প্রবল পরাক্রমী একনায়ক কিম
গরমে ঠান্ডা থাকুন

গরমে ঠান্ডা থাকুন

ক্রমেই বাড়ছে তাপমাত্রা। যেন মরুভূমির আবহাওয়া। জীবনযাত্রা হয়ে উঠছে কষ্টসাধ্য।
সূচনাতেই জয়ের মুকূট

সূচনাতেই জয়ের মুকূট

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) তৃতীয় ম্যাচে কিংস এলেভেন

মিডিয়া

'সাংবাদিক নির্যাতনকারীদের গ্রেফতারে ব্যর্থ হলে স্বরাষ্ট্র ও তথ্য মন্ত্রীকে বিদায় নিতে হবে'

'সাংবাদিক নির্যাতনকারীদের গ্রেফতারে ব্যর্থ হলে স্বরাষ্ট্র ও তথ্য মন্ত্রীকে বিদায় নিতে হবে'

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পেশাগত দায়িত্বপালনকালে সাংবাদিকদের যারা রক্তাক্ত করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে[...]

সংগঠন/কর্পোরেট সংবাদ

ই-ক্লাব এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরিত

ই-ক্লাব এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: তরুণ উদ্যোক্তাদের ক্লাব অন্ট্রাপ্র্যানার্স ক্লাব অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ই-ক্লাব) এবং[...]

বিজ্ঞান- তথ্যপ্রযুক্তি

ঢাকায় তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

ঢাকায় তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ১৬ই নভেম্বর গ্লোবাল অন্ট্রাপ্রেনিওরশিপ উইক ২০১৭ সেলিব্রেটিং প্রোগ্রাম আয়োজন করেছে তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে গড়ে উঠা সংগঠন “ই-ক্লাব“[...]

লাইফস্টাইল

ঘামের দুর্গন্ধ প্রতিরোধের উপায়

ঘামের দুর্গন্ধ প্রতিরোধের উপায়

নিউজ ডেস্ক :  গরমকাল পড়লেই অনেক সমস্যা হুট করেই এসে হাজির হয়। ব্রণের সমস্যা, গরমে ঘেমে নাজেহাল হওয়ার সমস্যা, মেকআপ[...]