শিরোনাম :

  • শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১

মাদক মামলায় এক নারীকে ১০টি বই পড়ার দণ্ড

নিউজ ডেস্কঃ দু’বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েও বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পেলেন পারভিন। যদিও বাড়ি গিয়ে সাতটি শর্ত মানতে হবে তাকে। পারভিনকে পড়তে হবে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা ১০টি বই। 

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সাতটি শর্তে বাড়িতে সাজা ভোগের আদেশ দিয়েছেন যুগ্ম দায়রা জজ এর ২য় আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস। সাজাপ্রাপ্ত পারভিন যশোর শহরের আশ্রম রোডের গাড়োয়ান পট্টির মৃত ওহাব মুন্সির মেয়ে।

আদালতের দেয়া শর্তের মধ্যে রয়েছে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, নীলিমা ইব্রাহিমের আমি বীরাঙ্গনা বলছি, মালেকা বেগমের মুক্তিযুদ্ধে নারী, মুহাম্মদ জাফর ইকবালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আনিসুল হকের মা, জহির রায়হানের আরেক ফাগুন ও একুশের গল্প, সেলিনা হোসেনের নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ও যাপিত জীবন, শওকত ওসমানের আর্তনাদ ও সৈয়দ সামসুল হকের আরও একজন বইটি পড়তে হবে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে যুগ্ম দায়রা জজ ২য় আদালতের কৌঁসুলি (এপিপি) আইয়ুব খান বাবুল জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসারের নজরদারিতে থেকে কোনো প্রকার অপরাধের সাথে জড়ানো যাবে না। সর্বত্র শান্তি বজায় রাখতে হবে এবং সকলের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। আদালত অথবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাকে কখনো তলব করলে শাস্তি ভোগ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যথাস্থানে হাজির হতে হবে।

কোনো প্রকার মাদক সেবন, বহন, সংরক্ষণ এবং সেবনকারী, বহনকারী ও হেফাজতকারীর সাথে মেলামেশা বা চলাফেরা করতে পারবেন না। আদালত কর্তৃক প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে থেকে নিজের বাসস্থান ও জীবনধারণের উপায় সম্পর্কে অবহিত করতে হবে নিয়মিত ভাবে। এই সময়ে প্রবেশন অফিসারের লিখিত অনুমতি ব্যতীত নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। আর আদেশের কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে, যে কোনো সময় আদালত কর্তৃক প্রবেশন বাতিল হবে এবং কারাগারে  থাকতে হবে। 

উল্লেখ্য,২০০৬ সালের ১৫ জুন আসামি পারভিনকে আটক ও তার কাছ থেকে ২০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করে পুলিশ। এ মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর দীর্ঘ ১৫ বছরের মধ্যে হাজিরা বন্ধ করেননি পারভিন। এ মামলা ছাড়া তার নামে আর কোনো মামলা নেই। আসামির সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে হাইকোর্টের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী পুনর্বাসনের জন্য শর্ত সাপেক্ষে প্রবেশন অফিসারের নিয়ন্ত্রণে মুক্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন বিচারক।

Print Friendly, PDF & Email