শিরোনাম :

  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

পাঠ্য বই থেকে ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’ অধ্যায় বাতিলের দাবি আল্লামা কাসেমীর

নিউজ ডেস্ক: দেশের অন্যতম শীর্ষ আলেম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, পাঠ্যবইয়ে ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের মননে নাস্তিক্যবাদের বীজ এবং চিন্তা-চেতনার বুনন চলছে।

গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে শিক্ষার আধুনিকায়নের নামে নতুন একটি বাতিল বিষয়বস্তু ডারউইনের বিবর্তনবাদ শিক্ষা নবম-দশম শ্রেণি থেকে শুরু করে মাস্টার্স শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিবর্তনবাদের প্রতিপাদ্যবিষয় হলো সৃষ্টিকর্তার ধারণা থেকে মানুষকে বের করে দেয়া। এ শিক্ষা চলতে থাকলে কয়েক প্রজন্ম পর পশ্চিমা দেশসমূহের মতো মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ সবার অগোচরেই নাস্তিক অধ্যুষিত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাধারণ বিজ্ঞান, নবম ও দশম শ্রেণি, পৃষ্ঠা নং-১০০ থেকে ১১২ পর্যন্ত, জীব বিজ্ঞান, নবম ও দশম শ্রেণি, পৃষ্ঠা নং-২৭০ থেকে ২৭৬ পর্যন্ত, জীব বিজ্ঞান ২য় পত্র, (গাজী পাবলিশার্স-ঢাকা), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, পৃষ্ঠা নং-২৮৭ থেকে ৩০০ পর্যন্ত, সমাজ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, পৃষ্ঠা নং-২৫১ থেকে ২৫৬ পর্যন্ত পাঠ বিবর্তনবাদের আলোকেই লেখা হয়েছে।

স্নাতক পর্যায়ে বিবর্তনের উপর স্বতন্ত্র পূর্ণাঙ্গ বই রয়েছে। কারণ, ডারউইনবাদ বা নব্যডারউইনবাদ-এর বক্তব্য ‘সব কিছু প্রকৃতি থেকে সৃষ্টি হয়েছে। অনতিবিলম্বে পাঠ্য বই থেকে ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’ অধ্যায় বাতিলেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এভাবে যদি সামনে ৮/১০ বছর এভাবে চলতে থাকে, তাহলে এদেশের প্রায় ৩০% মানুষ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করবে না। এখন যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা এগুলো পড়ছে তারা আগামীতে বাবা মা হবে। বাবা মা যদি সৃষ্টিকর্তার ধারণায় সন্দিহান থাকেন, তবে সন্তানরা কী করবে?

মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, এভাবে পুরো জাতির এত বড় সর্বনাশ আমরা করতে দিতে পারি না। আমরা এমন জাতি বিনাশী উদ্যোগ চুপচাপ দেখে যেতে পারি না। তিনি এ বিষয়ে দেশের আলেম সমাজ, অভিভাবকমহল, রাজনীতিবিদ ও জনসাধারণকে সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দেন এবং সরকারের প্রতি অনতিবিলম্বে বিবর্তনবাদ শিক্ষা বাতিলের জোর আহ্বান জানান।