শিরোনাম :

  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মোটেও কাম্য নয়: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মোটেও কাম্য নয়, ক্রসফায়ার কখনোই পছন্দ করে না হাইকোর্ট। সরকার কোনও ভুল কাজ করলে সেটার প্রতিক্রিয়া দেখাবে জনগণ; এতে আদালতের কিছু বলার নেই, এ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ করারও কিছু নেই।’

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) রিফাত শরীফের হত্যাকারীদের গ্রেফতারে প্রশাসনের অগ্রগতি সংক্রান্ত এক শুনানিতে হাইকোর্ট এসব মন্তব্য করেন।

বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার পাঁচ আসামি ও সন্দেহভাজন চারজনসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে বরগুনা জেলার ডিসি ও এসপি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাইকোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লা আল মাহমুদুল বাশার।

গত ২৭ জুন হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, রিফাত শরীফের হত্যাকারীরা যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারে সে বিষয়ে দেশের সব থানায় অ্যালার্ট জারি করার জন্য। পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। এর পরের দিন দ্বিতীয় আসামি রিফাত ফরাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ দিনই তার বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী।

এ মামলার এজাহারভুক্ত গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মামলার ২ নম্বর আসামি রিফাত ফরাজী (২৩), ৪ নম্বর আসামি চন্দন (২১), ৯ নম্বর আসামি মো. হাসান (১৯), ১১ নম্বর আসামি মো. অলিউল্লাহ অলি (২২) ও ১২ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয় (২১)।

এ ছাড়া রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্ততে সন্দেহভাজন গ্রেফতাররা হলেন মো. নাজমুল হাসান (১৯), তানভীর (২২), মো. সাগর (১৯), কামরুল হাসান সাইমুন (২১) ও রাফিউল ইসলাম রাব্বি।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশাকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ আরও দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা। রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।