ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক কারবারিরা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাসুম খন্দকার (৩৭) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক কারবারিরা।

শুক্রবার দুপুরে নোয়াপাড়া-দক্ষিণ রূপসী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মাসুম ওই এলাকার মো. ফজর আলী খন্দকারের ছেলে। বর্তমানে তিনি রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। 

এ বিষয়ে আহত ব্যবসায়ীর বাবা মো. ফজর আলী খন্দকার বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় শুক্রবার বিকালে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ মে) বিকালে এক ভিখারি নোয়াপাড়ায় হাজী দারগালি জামে মসজিদে আসরের নামাজের সময় সাহায্য চাইতে আসেন। এ সময় স্থানীয় মাদক কারবারি হিসেব পরিচিত মোস্তফা ওই ভিখারিকে ধমক দিতে থাকেন। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ফজর আলী মোস্তফাকে ধমক দিতে নিষেধ করলে মোস্তফা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। এ বিষয়ে অন্যান্য মুসল্লিদের সঙ্গেও মোস্তফার বাকবিতার এক পর্যায়ে মাসুম খন্দকার প্রতিবাদ জানান। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে মোস্তফা প্রতিবাদী মাসুমকে মারধর করবেন বলে হুমকি দিয়ে চলে যান।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মাসুম খন্দকার মসজিদ থেকে বের হতেই তার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় মাদক কারবারিরা। এ সময় ওই এলাকার মাদক সম্রাট মো. ইসহাক ও মোস্তফার নেতৃত্বে তার সহযোগী একই এলাকার মো. ছবুর ও  ইউসুফসহ তাদের লোকজন মাসুমের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাথারি মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে মোস্তফা চাপাতি দিয়ে মাসুমকে কোপ দেয়। এ সময় তার ভাই ছবুর ব্লেড দিয়ে মাসুমকে পোঁচ দিলে তার মুখে গভীর ক্ষত হয়।

পরে ইসহাক, রাশিদা ও  ইউসুফ লোহার পাইপ ও রড দিয়ে মাসুমকে পিটিয়ে জখম করেন। এ ঘটনায় মাসুমের দুটি দাঁত ভেঙে যায়। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ওই মাদক কারবারিরা অস্ত্রের মুখে মাসুমকে মৃত্যুর হুমকি দিয়ে চলে যায়। 

এ ঘটনায় স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় মাসুমকে উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। 

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।