সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সারাদেশে বন্যা কবলিত জেলার সংখ্যা বেড়ে ১৫ দাঁড়িয়েছে। অন্তত ১৫ লক্ষ মানুষ দুর্গত বলে এদিন জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এদিকে, সোমবার কুড়িগ্রাম এবং জামালপুরে বন্যার পানিতে ডুবে যথাক্রমে ৫ ও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

আগামী ৭২ ঘণ্টায় যমুনা ও পদ্মায় পানির স্তর আরও বাড়বে বলে আভাসে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। যার জেরে কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছে প্রশাসন। চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

ভারী বর্ষণের আর উজানের ঢল দু’য়ে মিলে গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, নেত্রকোনা, সিলেট ও চট্টগ্রামের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। এসব এলাকার অনেক স্থানে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। পানিবন্দি হয়ে পড়ছে লাখো মানুষ।কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো. রুমানুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে বাড়ছে বানভাসী মানুষের সংখ্যা। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার প্রায় ২৮৫টি স্কুলে বন্ধ হয়ে গেছে। সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম সূত্রের খবর, রবিবার পর্যন্ত বন্যায় ৫৩ হাজার ৫৫১টি পরিবারের ২ লাখ ১৪ হাজার ১০৪ জন মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। উল্লেখ, বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বভাস দিয়েছে, উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের বিস্তৃত এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি, ভারী ও অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। সেইসঙ্গে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামা, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনিত হতে পারে।