শিরোনাম :

  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ত্যাগ স্বীকার করে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলুন: নেতাকর্মীদের ফখরুল

নিজম্ব প্রতিবেদক: সরকার জনগণের বিরুদ্ধে চলে গিয়ে জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তাই আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটাতে নেতাকর্মীদের আহবান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা যদি গণতন্ত্রের মুক্তি চাই, গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই ও দেশনেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই তবে আমাদেরকে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। ত্যাগ স্বীকার করে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশনেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনবো ইনশাআল্লাহ।’

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) বিএনপি ৪১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নয়া পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পূর্ব ঘোষিত র্যালির আগে দেওয়া বক্তব্য ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ সরকার গোটা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধংস করে দিয়েছে। গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। ট্যাক্স বাড়িয়েছে। কিন্তু জনগণের কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। তারা লুট করে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ধংস করে দিয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। কয়েকদিন আগেই পত্রিকায় এসেছে ২৭ হাজার কোটি টাকা তারা পাচার করে দিয়েছে।’

বিএনপিন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার পরিকল্পিতভাবে বন্দি করে রেখেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এ সরকার অত্যান্ত পরিকল্পিতভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখেছে। লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গণতন্ত্রকে ধংস করছে। তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ’

এসময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা কী আবার বাকশালে ফিরে যাব?’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘এদেশের সাধারণ মানুষ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলাম। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেই স্বাধীনতা, গণতন্ত্রকে অন্যের দ্বারা পদদলিত করতে দেব না।’

‘এ সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করছে। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেজন্য দেশনেত্রীকে আটকে রেখে,  জনগণকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হত্যা করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।’

এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামছুল আলম তোফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শাহ মোহাম্মদ নেসারুল হক, কৃষক দলের আহবায়ক কমিটির সদস্য এসকে সাদী, মাইনুল ইসলাম, মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার প্রমুখ।

এর আগে র‌্যালিতে অংশ নিতে দুপুর থেকে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে উপস্থিত হন। এতে নয়াপল্টন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।