শিরোনাম :

  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ঢাকা–খুলনা ম্যাচ অনেক প্রশ্ন

dhaka

দেশনিউজ.নেট ডেস্ক: টাইটানসের এই ম্যাচ জিততেঢাকা ডায়নামাইটস শেষ চার নিশ্চিত করেছে অনেক আগেই। ম্যাচটা তাই  বাঁচা-মরার ছিল না তাদের কাছে। কিন্তু প্লে-অফ নিশ্চিত করতে খুলনাই হতো। শেষ পর্যন্ত তারা জিতেও  গেছে।
টুর্নামেন্টে কালকের ম্যাচের আগ পর্যন্ত খুলনার সর্বোচ্চ রান ছিল ১৫৭। কিন্তু কাল তারা ঢাকার দেওয়া  ১৫৮ রানের বড় লক্ষ্যটা পেরিয়ে গেছে ১২ বল বাকি থাকতেই। দুর্দান্ত খেলার জন্য প্রশংসা-বৃষ্টিতে  ভেজার কথা খুলনার। তা হচ্ছে কই? উল্টো এই ম্যাচ নিয়ে সন্দেহের বাতাবরণ! দর্শক থেকে শুরু করে  সংবাদমাধ্যম—সবার প্রশ্ন, শেষ চারে দুর্বল দল বেছে নিতেই শক্তিশালী ঢাকা এমন খেলেছে? হালকাভাবে নিয়েছে খুলনাকে?
প্রশ্নগুলো আরও বেশি উচ্চকিত হয়েছে ডোয়াইন ব্রাভো, আন্দ্রে রাসেল, এভিন লুইসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেওয়ায়। ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ বললেন, ‘খুলনাকে হালকাভাবে নিয়েছি, তা ঠিক নয়। রাসেল চোটে পড়েছে। ওকে এই ম্যাচে মিস করেছি। আমরা যেহেতু আগেই শেষ চার নিশ্চিত করেছি, রাসেল আর এক টানা খেলা ব্রাভোর একটা বিশ্রাম দরকার ছিল। এভিন লুইসও তাই।’
যদি ম্যাচে ঢাকা জিতত, তবে প্লে-অফে তাদের খেলতে হতো টুর্নামেন্টে আরেক শক্তিশালী দল চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে। সেটি কি এড়াতে চেয়েছেন তাঁরা? কোচের ব্যাখ্যা, ‘টুর্নামেন্টে সব দলই শক্তিশালী। কার সঙ্গে খেলব এমন কোনো লক্ষ্য ছিল না আমাদের। আমরা চেয়েছি খেলোয়াড়দের ঠিকভাবে বিশ্রাম দিয়ে নকআউট পর্বে যাতে আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারি। এখন দলের সমন্বয় ভালো। কেউ যাতে চোটে না পড়ে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য ছিল।’
খুলনাকে দুর্বল দলও ভাবতে রাজি নন, ‘কোনো সময়ই মনে করি না খুলনা টাইটানস দুর্বল দল। এই দলে মাহমুদউল্লাহ অধিনায়কত্ব করছে, অসাধারণ খেলছে সে। তার দলে দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে যারা ম্যাচ জেতাতে পারে। আমরা খুলনা ও রাজশাহীর সঙ্গে দুবার হেরেছি। সেমিফাইনালে ওদের সঙ্গে খেলার সময় মানসিকভাবে একটু চাপে থাকব। জানি আমরা ভালো দল। যতই ভালো দল হন মাঠে সেটা প্রয়োগ করতে পারছেন কি না সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। এবার সবাই ভালো খেলছে। কাউকে আন্ডারডগ বলা যাবে না।’
মাহমুদের দাবি চিটাগংয়ের সঙ্গেই তাঁরা শেষ চারে খেলতে চেয়েছিলেন, ‘আমরা চাচ্ছিলাম চিটাগংয়ের সঙ্গে খেলতে। ভালো অবস্থায় আছি বলেই দলে পরিবর্তন (একাদশে) আনতে পেরেছি। নকআউট পর্বটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওখানে খেলোয়াড়দের ফ্রেশ পাওয়াটা জরুরি।’
সংবাদ সম্মেলনে খালেদ মাহমুদের পাশেই বসা ছিলেন খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। কাল অসাধারণ এক ইনিংস খেলেছেন তিনি, ২৮ বলে করেছেন ৫০ রান। অথচ এই ম্যাচ নিয়েই কিনা এত আলোচনা! বিষয়টি কতটা বিব্রতকর তাঁর জন্য? মাহমুদউল্লাহ অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন সবকিছু, ‘আমার কাছে মনে হয় না এটা বিব্রত করার মতো কিছু। দুটি দলই ভালো। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল। আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েই খেলতে হয়েছে। ঢাকার জন্য এমন সমীকরণ ছিল না। এ কারণে তাদের সেরা সমন্বয়ের কয়েকজনকে বিশ্রাম দিয়েছে। দিন শেষে এটা ক্রিকেট ম্যাচ। আমরা আমাদের সেরাটা দিতে পারলে যেকোনো দলের জন্যই ভালো প্রতিপক্ষ হতে পারব।’
১২ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকা পয়েন্ট তালিকার সবার ওপরে। ১২ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে খুলনা। কাল সন্ধ্যায় শেষ চারে আবার মুখোমুখি পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুটি দল।