শাবাশ বাংলাদেশ!

স্পোর্টস ডেস্কঃ আয়ারল্যান্ড দাঁড় করলো ২৯২ রান। আগের দুই ম্যাচের তুলনায় ছিল চ্যালেঞ্জিং স্কোর। যদিও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একবারের জন্য লক্ষ্যটা কঠিন মনে হয়নি বাংলাদেশের। হেসেখেলেই আইরিশদের উড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের ‘প্রস্তুতি’ পর্ব সেরে নিলো টাইগাররা। ডাবলিনের জয়টা ৬ উইকেটের।

লেগ সাইডে পুল করে রান নিতে গিয়েই কোমরের ঠিক উপরের দিকে চেপে ধরলেন সাকিব আল হাসান। সেজন্য মাঠেই চিকিৎসা নিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। তবে তাকে নিয়ে হয়তো ঝুঁকি নিতে চায়নি বাংলাদেশ। তাই রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছেড়েছেন সাকিব।

টিভি পর্দায় সাকিবকে দেখে বোঝা গেছে, সাইড স্ট্রেইনে সমস্যা হচ্ছিল তার। পুল করতে গিয়েই টান লেগেছে তার। মাঠে চিকিৎসা নেওয়ার পরও খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন সাকিব। তবে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪২তম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করার পর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন তিনি।

দুর্দান্ত ক্যাচে থামলেন মুশফিক

ছোঁ মেরে বল গ্লাভসবন্দী করলেন গ্যারি উইলসন। মুশফিকুর রহিমের সম্ভাবনাময় ইনিংসটিও থেমে যায় তাতে। অসাধারণ এক ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন এই ব্যাটসম্যান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগের খেলায় ম্যাচজেতানো ৬৩ রানের ইনিংস এসেছিল মুশফিকের ব্যাট থেকে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও শুরুটা হয়েছিল তার দারুণ। কিন্তু বয়েড রানকিনের বলে আইরিশ উইকেটরক্ষক উইলসনের চমৎকার ক্যাচে ৩৫ রানে শেষ হয়েছে তার ইনিংস। ৩৩ বলের ইনিংসে মেরেছেন তিনি ৫টি বাউন্ডারি। লেগ সাইডে মুশফিকের ফ্লিক করা বলটি বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে গ্লাভসবন্দী করেন উইলসন।

চমৎকার ইনিংস খেলে ফিরলেন লিটন

টিম ম্যানেজমেন্টের কাজ কঠিন করে তুললেন লিটন দাস। আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাননি তিনি। তবে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সৌম্য সরকারের বিশ্রামে জায়গা পাওয়া এই ওপেনার প্রমাণ করলেন নিজেকে। আইরিশদের বিপক্ষে খেলে গেছেন ৭৬ রানের কার্যকরী ইনিংস।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন তিনি ব্যারি ম্যাকার্থির বলে। আউট হওয়ার আগে ৬৭ বলে ৯ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৭৬ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফাইনালের সঙ্গে বিশ্বকাপের একাদশে থাকার জোর দাবি জানিয়ে গেছেন লিটন।

হাফসেঞ্চুরি করেই তামিম আউট

আরেকবার হতাশায় ডুবলেন। আরেকবার ভালো শুরু করেও ইনিংস লম্বা করতে না পারার আক্ষেপে পুড়লেন তামিম ইকবাল। চমৎকার ব্যাটিংয়ে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করার পরপরই আউট হয়ে গেছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ওপেনার।

আগের ম্যাচের হতাশা দূর করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৬তম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করলেও ৫৭ রানে দুর্ভাগ্যজনক আউটে ফিরতে হয়েছে তাকে। রয়েড রানকিনের বল তার ব্যাটে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ৫৩ বলের ইনিংসটি তামিম সাজান ৯ বাউন্ডারিতে।

সুযোগ পেয়েই লিটনের ফিফটি

সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করলেন লিটন দাস। সৌম্য সরকারকে বিশ্রাম দিয়ে লিটনকে নামানো হয়েছে ওপেনিংয়ে। তামিমের সঙ্গে ইনিংস শুরু করে এই ব্যাটসম্যান পূরণ করেছেন হাফসেঞ্চুরি। তামিম ফিফটি পূরণ করার পরপরই তিনিও স্পর্শ করেন মাইলফলকটি।

জর্জ ডকরেলের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন লিটন। ৪৭ বলে তিনি পান ফিফটির দেখা।