তাণ্ডবে উড়ে গেল অস্ট্রেলিয়া, শিরোপা লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক: ইংলিশদের তাণ্ডবে উড়ে গেল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অজিরা। ফলে শিরোপা লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ডে।

মঞ্চ তৈরি করেই রেখেছিলেন বোলাররাই। বাকি কাজটা সারলেন ব্যাটসম্যানরা। সহজভাবে বললে জেসন রয়। ব্যস তৈরি হয়ে গেল ফাইনালের পথ! বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে আক্ষরিক অর্থেই উড়িয়ে ১৯৯২ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ড। এজবাস্টনের সেমিফাইনালে ইংলিশদের জয়টা ৮ উইকেটের।

বিতর্কিত আউটে রয়ের বিদায়

বিতর্কিত আউটে শেষ হলো জেসন রয়ের চমৎকার ইনিংস। বল ব্যাট কিংবা গ্লাভসে না লেগেও ক্যাচ আউট হয়ে ফিরেছেন ইংলিশ ওপেনার! আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনার ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের বলি হয়ে ৮৫ ‍রানে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন রয়।

তার তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে সেঞ্চুরির পথেও হাঁটছিলেন এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু আম্পায়ারের ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের বলি হয়ে ফিরতে হলো প্যাভিলিয়নে। টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে প্যাট কামিন্সের বল তার ব্যাট কিংবা গ্লাভসে না লেগেই জমা পড়ে উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে। বেশ কিছুক্ষণ ভেবে আঙুল তুলে আউটের সংকেত দেন আম্পায়ার।

হতাশ হয়ে ফেরার সময় রয় তার ৬৫ বলের ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন ৯ চার ও ৫ ছক্কায়।

ইংল্যান্ডের ব্যাটিং তাণ্ডবে দিশেহারা অস্ট্রেলিয়া

দানবীয় ব্যাটিং করলেন জেসন রয়। গোটা বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে থাকা ইংলিশ ওপেনার জ্বলে উঠলেন সেমিফাইনালেও। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাণ্ডব চালিয়ে পূরণ করেছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৮তম হাফসেঞ্চুরি। ৫০ বলে ফিফটি পূরণ করা রয় হাফসেঞ্চুরি করে হয়ে উঠেছেন আরও ভয়ঙ্কর। স্টিভেন স্মিথের টানা তিন বলে হাঁকিয়েছেন তিন ছক্কা।

তার সঙ্গে দারুণ ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন জনি বেয়ারস্টো। তবে তার আউটে ইংল্যান্ড হারিয়েছে প্রথম উইকেট। ৩৪ রান করে মিচেল স্টার্কের বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফিরেছেন তিনি। তার আউটে ভাঙে রয়ের সঙ্গে গড়া ১২৪ রানের জুটি।

ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত শুরু

দুর্দান্ত শুরু পেয়েছে ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছেন দুই ওপেনার জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো। শুরুতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও ইংল্যান্ডের অবস্থা ঠিক বিপরীত। ৫৯ বলে স্বাগতিকরা ছাড়িয়েছে ৫০ রান।

স্মিথের প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়ার রান ২২৩

শুরুর মতো শেষেও আঘাত করলেন ক্রিস ওকস। মাঝের সময়ে আদিল রশিদের স্পিন ছোবলে কুপোকাত অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ড বোলারদের দাপটের দিনে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে গেলেন স্টিভেন স্মিথ। বিপদের সময় সাবেক এই অধিনায়ক খেলেছেন ৮৫ রানের কার্যকরী ইনিংস। তার হাফসেঞ্চুরির সঙ্গে অ্যালেক্স ক্যারির প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়া ৪৯ ওভারে অলআউট হয়েছে ২২৩ রানে।

ওকসের পেস ঝড়ে মাত্র ১৪ ‍রান তুললে অস্ট্রেলিয়া হারায় ৩ উইকেট। সেখান ‍থেকে শুরু স্মিথ-ক্যারির প্রতিরোধ। ‍চতুর্থ উইকেটে তাদের গড়া ১০৩ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু রশিদ এক ওভারে ক্যারি (৪৬) ও মার্কাস স্টোইনিসকে (০) ফেরালে আবার বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। সেটা ‍আরও বাড়ে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের (২২) বিদায়ে।

তবে বিপদের মুহূর্তে একপ্রান্ত আগলে রেখে অসাধারণ এক ইনিংস খেলে গেছেন স্মিথ। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে পূরণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৩তম হাফসেঞ্চুরি। রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ১১৯ বলে ৬ বাউন্ডারিতে করে যান ৮৫ রান। যোগ্য সঙ্গ পেয়েছেন তিনি মিচেল স্টার্কের (২৯) কাছ থেকে।

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সফল বোলার ওকস। এই পেসার ৮ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। তার মতো ৩ উইকেট পেয়েছেন স্পিনার রশিদও। ৩২ রান দিয়ে জোফরা আর্চারের শিকার ২ উইকেট।