আসাম থেকে বিতাড়িত বাঙালীদের আশ্রয় দেয়ার ঘোষণা মমতার

মমতানিউজডেস্ক: আসাম থেকে অত্যাচারিত হয়ে যে বা যারা চলে আসবেন, পশ্চিমবঙ্গ তাদের বুকে আগলে রাখবে। নিজের লোক মনে করে আশ্রয় দেয়া হবে তাদের। মঙ্গলবার দুপুরে আসাম সীমান্তের কুমারগ্রাম ব্লকের কামাখ্যাগুড়ির এক সভায় প্রত্যয়ের সঙ্গেই এই ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

আসাম লাগোয়া আদিবাসী অধ্যুষিত আলিপুরদুয়ার জেলার এই অংশে বাঙালি, বিহারি আর মাড়োয়ারির মিশ্র অবস্থান রয়েছে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই মমতা বলেন, ৩০, ৪০ এমনকী ৫০ বছর ধরে সেখানে রয়েছেন, এমন বহু ‘জেনুইন’ নাম নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়েছে। ৩ কোটি ৩৯ লক্ষ মানুষের মধ্যে বাদ গেছে ১ কোটি ২৯ লক্ষের নাম। শুধু বাঙালি নয়, বিহার ও রাজস্থানের বহু মানুষের নামও বাদ দেয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, বাঙালির গায়ে হাত পড়লে আমার যেমন কষ্ট হয়, তেমনই বিহারি আর রাজস্থানি ভাই-বোনদের গায়ে হাত পড়লেও আমার ব্যথা লাগে। এ রাজ্যে আমরা সবাই একসঙ্গে থাকি, একে অপরের পাশে থাকি। তার প্রশ্ন, আমার ভাই-বোনদের মেরে তাড়াবে! কেন কী দোষ তাদের?

এদিন মমতা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কিছু হলে আসামে তার কোনো প্রভাব পড়ে না। কিন্তু আসামে কিছু হলে বাংলায় তার বিস্তর প্রভাব পড়ে। আসামে যদি এই বিদ্বেষ শুরু হয়, গোটা ভারতে তার প্রভাব পড়বে। এর আগে জাতিদাঙ্গার সময় বহু মানুষ পালিয়ে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম।

এরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি, কেউ যদি চলে আসেন, স্থান দেবেন। নিজের মনে করে ঠাঁই দেবেন। তাড়াবেন না।

মমতা বলেন, এক রাজ্যের মানুষ অন্য রাজ্যে জীবন-জীবিকার জন্য যাবেন, থাকবেন, এটাই তো রীতি। আমাদের রাজ্যেও ভিন প্রদেশের বহু মানুষ পেটের তাগিদে থাকেন। কিছুটা কটাক্ষের সুরে মুখ্যমন্ত্রীর উষ্মা, বিজেপি’র বন্ধুরা, তোমরা খুন করবে, আর আমরা আগলে রাখব। এটাই তোমাদের সঙ্গে আমাদের তফাত! এখানেও তো ভিনরাজ্যের ৩০ শতাংশ ছেলেমেয়ে কাজের তাগিদে রয়েছেন। তারা তো নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন না! আর কত দাঙ্গা, আর কত ষড়যন্ত্র, আর কত চক্রান্ত করবে তোমরা।

কুমারগ্রাম বিধানসভার এই অংশে ইদানীং আদিবাসী মহল্লায় আনাগোনা বেড়েছে গেরুয়া শিবিরের। সেই নিরিখে মমতার সভায় যে জনস্রোত প্রত্যক্ষ করা গেছে, তাতে কপালে ভাঁজ পড়বে ওই শিবিরের নেতাদের। জনতার মুড বুঝে তাই সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীও। বলেছেন, এক এনজিও’র নামে আদিবাসীদের শিক্ষাদানের আড়ালে এখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে আরএসএস-বিজেপি। এদের কথায় ভুলবেন না, বিশ্বাসও করবেন না।