শিরোনাম :

  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ এখন ইসলামী ব্যাংকের

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ এখন ইসলামী ব্যাংকের। গত তিন মাসে ব্যাংকটিতে খেলাপি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। গত মার্চের শেষে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৮.৮৩ শতাংশ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের শেষে ব্যাংকটির খেলাপির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা। আর ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের শেষে তা ছিল ২ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে মিলেছে এ তথ্য।

সরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ইসলামী ব্যাংকও ভালো নেই। একসময় ব্যাংকটি দেশের বিপদে পড়া অন্য ব্যাংককে আর্থিকভাবে সহায়তা করতো। এখন নিজেই সংকটে। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত সংকটের শুরু ২০১৬ সাল থেকে। ওই বছরের মাঝামাঝিতে ব্যাংকটির মালিকানায় পরিবর্তন আসে। এরপর থেকে বিভিন্ন সূচকে অবনতি হতে থাকে এটির।

তথ্য বলছে, তহবিল সংকটের কারণে ব্যাংকটি আগের মতো ঋণ দিতে পারছে না। বিতরণ করা ঋণও ঠিকঠাক ফেরত আসছে না। ফলে খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

ইসলামী ব্যাংকের এই পরিস্থিতির জন্য পেশাদারিত্বের অভাবকে দায়ী করেন খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। তিনি বলেন, ‘মালিকানা পরিবর্তন হওয়ায় ব্যাংকটির পেশাদারিত্বের অভাব লক্ষ করা গেছে।’

প্রসঙ্গত, বেসরকারি খাতের সবচেয়ে লাভজনক হিসেবে ভূমিকা রাখা ইসলামী ব্যাংকে একদিকে পরিবর্তন হয়েছে মালিকানার, অন্যদিকে পরিবর্তন এসেছে ব্যবস্থাপনাতেও। আগে জামায়াত ঘরানার ব্যক্তিরা এটি নিয়ন্ত্রণ করতেন। এখন তা চলে গেছে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়িক গ্রুপ এস আলমের হাতে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ থেকে প্রথমে জামায়াত ঘরানার ব্যক্তিদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি আরও বড় পরিবর্তন আসে এ ব্যাংকে। ওই দিন ব্যাংকটির শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক রদবদলসহ পুনর্গঠন করা হয় পরিচালনা পর্ষদ। পর্ষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোস্তফা আনোয়ারকে সরিয়ে নতুন চেয়ারম্যান করা হয় সাবেক সচিব আরাস্তু খানকে। পদত্যাগে বাধ্য করা হয় তৎকালীন এমডি মোহাম্মদ আবদুল মান্নানকে।

ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৩ সালে। শুরু থেকেই ব্যাংকটির ওপর জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপক প্রভাব ছিল।