• বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৩

এবার সামাজিক মাধ্যমে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার তোড়জোড়

তারেক রহমান

আদালত প্রতিবেদক ।।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন  তারেক রহমানের বক্তব্য বা বিবৃতি সংবাদমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ বা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশে নিষেধাজ্ঞার রুল শুনানির জন্যে তৎপর হয়ে উঠেছেন রিট আবেদনকারী আইনজীবীরা। হাই কোর্টে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. খায়রুল ইসলামের বেঞ্চে শুনানির এ উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক খাদ্য মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন।

মামলাটি এ আদালতের বৃহস্পতিবারের (৩ আগস্ট) কার্যতালিকায় রয়েছে বলেও জানান এই আইনজীবী।

সাড়ে আট বছর আগে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করার প্রেক্ষাপটে ‘আইনের দৃষ্টিতে পলাতক’ থাকা অবস্থায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য বা বিবৃতি সব ধরনের গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।  ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি নাসরিন সিদ্দিকী লিনা নামে এক আইনজীবীর রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ রুল জারিসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছিলেন।

বুধবার দুদকের মামলায় তারেক রহমানকে ৯ বছর এবং তাঁর স্ত্রী জোবায়দা রহমানকে ৩ বছর সাজার আদেশ দেয় বিশেষ আদালত। ১৫ বছর ধরে পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এ নিয়ে পাঁচ মামলায় সাজার রায় এসেছে। এরমধ্যেই তার বক্তব্য বা বিবৃতি প্রচারে নিষেধাজ্ঞার রুল শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হলো।

বুধবার অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি ওই রিটের রুল জারির পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার বন্ধ ছিল। ইতোমধ্যে রুল জারি হয়ে এসেছে এবং মামলা শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে। তাই এখন এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসা প্রয়োজন মনে করে মামলাটির শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে হাই কোর্ট রুল জারি করেছিল ওই সময়। রুলে তথ্য ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছিল। রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে বলে ওই সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায় জানিয়েছিলেন।

চার সপ্তাহের মধ্যে তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিটিভির মহাপরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, একুশে টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও তারেক রহমানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

একইসঙ্গে তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের ওই সময়ের অবস্থা জানাতে পররাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ মহাপরিদর্শককে তারেকের পাসপোর্টের মেয়াদ জানিয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এজন্য এ দুইজনকে সময় দেওয়া হয়েছিল ৩০ দিন।

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান [ওই সময়ের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান] তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ২০১৫ সালে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকী লিনা।

তার পক্ষে রিটের শুনানি করেছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সাহারা খাতুন (প্রয়াত), এসএম মুনীর, শ ম রেজাউল করিম (বর্তমানে মন্ত্রী) ও সানজিদা খানমসহ কয়েকজন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায়।

আদেশের পর শ ম রেজাউল করিম বলেছিলেন, “এই আদেশের ফলে পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের পাশাপাশি অনলাইনেও তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য প্রচার করা যাবে না।”

এ রিট আবেদনে বলা হয়,  ‘ফেরারি আসামি’ তারেক রহমান সংবিধান লঙ্ঘন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে নানা ‘অপরাধমূলক’ কথা বলছেন, যা দণ্ডবিধি অনুসারেও অপরাধ।

“এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছেন, যা তথ্য প্রযুক্তি আইন অনুসারে অপরাধ। “এর মাধ্যমে তিনি শান্তিভঙ্গ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছেন। পলাতক এই আসামির বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় পুনরাবৃত্তিতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যম পুনরুৎপাদন না করলে এর পুনরাবৃত্তির সুযোগ থাকবে না।”

বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যের জন্য বাংলাদেশে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা হয়েছে, যাতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে আদালত।

Print Friendly, PDF & Email