৩৮ মাসে ৫৮ হাজার নতুন খেলাপির ঋণ ৪৩ হাজার কোটি টাকা

সংসদ প্রতিবেদক: গত ৩৮ মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৪৩ হাজার ২১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এ সময়ে ঋণখেলাপির সংখ্যা বেড়েছে ৫৮ হাজার ৪৩৬ জন। শনিবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম লুৎফুন নেসা খানের (ওয়ার্কার্স পার্টি) প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানান। এ সময়ে সংসদে ৩০০ ঋণখেলাপির তালিকাও প্রকাশ করেন তিনি।

এ তথ্য ছাড়াও সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের (নওগাঁ-৬) প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদে শীর্ষ ৩০০ ঋণখেলাপির তালিকা তুলে ধরেছেন। এই শীর্ষ ৩০০ ব্যক্তির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। এ তথ্য ছাড়াও ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫ কোটি টাকার ঊর্ধে ঋণ গ্রহীতার তালিকাও জানিয়েছেন। এর সংখ্য ১৪ হাজার ৬১৭ জন। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই ঋণ গ্রহীতাদের প্রদত্ত ঋণের পরিমাণ ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। এদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ১৮৩ কোটি টাকা।

লুৎফুন নেসা খান তার প্রশ্নে ২০০৯ সালে ঋণখেলাপি কত ছিল ও তাদের কাছে প্রাপ্ত ঋণের পরিমাণ এবং ২০১৮ সালে ওই সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ জানতে চাইলেও ডাটা ওয্যারহাউজ না থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেজে ২০১৫ সালের অক্টোবরে আগের সময়ে তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। এ কারণে ২০০৯ সালের ঋণের তথ্য প্রদান করা সম্ভব হয়নি বলে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান। তিনি জানান, এর ফলে লুৎফুন নেসার প্রশ্নের জবাবে ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ঋণখেলাপি ও তাদের ঋণের পরিমাণ সংসদকে জানানো হয়েছে।

এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, অক্টোবর ২০১৫ সালে ঋণখেলাপির সংখ্যা ছিল এক লাখ ১১ হাজার ৯৫৪ জন এবং তাদের কাছে ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। আর ডিসেম্বর ২০১৮ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপির সংখ্যা এক লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ এবং অর্থের পরিমাণ এক লাখ ২ হাজার ৩১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।