বিভিন্ন দেশের স্থাপনা রেপ্লিকা করে নিজেদের পর্যটন আয় বাড়াচ্ছে চীন

২০১৪ সালে মিশরের স্ফিংসের রেপ্লিকা তৈরি করেছিলো চীনে। তবে মিশরীয় মিনিস্ট্রি অব স্টেট অব এন্টিকুইটিজ ও দেশটির সর্বসাধারণের অভিযোগে প্রতিমূর্তিটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় চীন। হেবেই প্রদেশের শিজিয়াজুয়াং শহরের মুভি অ্যান্ড এন্টারটেইন পার্কে গড়ে তোলা হয়েছিল স্ফিংসের এই আবক্ষ মুর্তিটি। এ বিষয়ে চীনের সিনহুয়া নিউজ মারফত জানা যায়, মিশরীয় মন্ত্রণালয় ইউনেস্কোর কাছেও এ বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। তবে চীনের ওই পার্কে স্ফিংসের প্রতিমুর্তি সরিয়ে ফেলা বা মিশরের অসন্তুষ্টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ইউনেস্কো।

৬০ মিটার লম্বা ও ৩০ মিটার উঁচু স্ফিংসের রেপ্লিকাটি স্টিলের পাত ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। তৈরির সময় পার্ক কর্তৃপক্ষ বলেছিণ স্ফিংস রেপ্লিকা কেবল সিনেমা ও টেলিভিশন ড্রামাতে ব্যবহারের জন্য সাময়িকভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এক পর্যায়ে তা চীনের পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে শুরু করে। পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য প্রতিমুর্তিটি দেখার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়ার নিয়ম করে দেয়া হয়।

অর্ধেক মানব ও অর্ধেক সিংহের আকৃতির আসল স্ফিংস পাঁচ হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশরীয়দের হাতে নির্মাণ করা হয়েছিলো বলে ধারণা করা হয়। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে একটি। প্রতিবছর মিশরের নীলনদের পশ্চিম তীরে ৭৩ মিটার লম্বা ও ২১ মিটার উঁচু এ ভাস্কর্যটি দেখতে প্রায় কয়েক হাজার পর্যটকদের সমাগম হয়। এই মুর্তিটির প্রতিমুর্তি তৈরি করে চীন তাতে বাধাগ্রস্থ করছে বলে মনে করছেন মিশরীয়রা।

তবে চীনের এরকম রেপ্লিকা তৈরি এখানেই শেষ নয়। বিভিন্ন দেশের পর্যটন নিদর্শনগুলো নিজের দেশে তৈরি করে পর্যটন খাতে প্রচুর অর্থ আয় করছে চীন। যেমন ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারের কথাই ধরা যাক। আইফেল টাওয়ার দেখতে চীনা নাগরিকদের এখন আর কষ্ট করে ফ্রান্সে যেতে হবে না। চীনা অধিবাসীদের জন্য চীনেই তৈরি করা হয়েছে আইফেল টাওয়ার। এছাড়াও চীনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনের সামনে মিশরের পিরামিড সদৃশ বেশ কিছু প্রতিমূর্তি চোখে পড়ার মতো।

এদিকে শুধু প্রতিমুর্তি নয় রেপ্লিকা ভবন নির্মাণেও পিছিয়ে নেই চীন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিল্ডিংয়ের রেপ্লিকা তৈরি করেছে চীন। তবে মাঝে রং দিয়ে ভবনটিকে বিভক্ত করা হয়েছে। এর কারণ জানতে চাওয়া হলে জানা যায় দুই দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য এমনটি করা হয়েছে। যদিও ভবনটি পশ্চিমা ডিজাইন অনুকরণ করে করা হয়েছে কিন্তু মাঝে রং দিয়ে একদিকে চীনা ও অপরদিকে পশ্চিমা সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া চীনের পশ্চিমাঞ্চলের হেফেই শহরে বেশ কিছু আধুনিক স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে যার বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের রেপ্লিকা স্থাপনা। এর মধ্যে বাদ পরেনি যুক্তরাজ্যের ষ্টোনহেঞ্জ। যার মূল নির্মাতা হচ্ছে যুক্তরাজ্য।

এদিকে অন্যদেশের বিভিন্ন স্থাপনা নকল করে দেশটি ক্রমেই রেপ্লিকার শহরে পরিণত হচ্ছে। তবে এ নিয়ে কোন প্রকার মাথা ব্যাথা নেই চীনের। তাদের মতে অনেকেই আছে যাদের অর্থ ব্যয় করে দেশে দেশে ঘুরে এসকল নিদর্শন দেখা সম্ভব নয়। মূলত তাদের কথা চিন্তা করেই চীনেই বিভিন্ন দেশের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো তৈরি করা হয়েছে। বিধায় পর্যটকরা দেশে দেশে না ঘুরে একটি দেশেই দেখতে পাবে সবকিছু। তবে চীনের এসকল কপিক্যাট নিদর্শন তৈরি করে নিজেদের পর্যটক খাতকে উন্নত করায় অনেক দেশ আবার নেতিবাচক মন্তব্য করেছে। তাদের মতে অন্যের দেশের সভ্যতা, নিদর্শন ও স্থাপনা নকল না করে চীনের উচিত নিজেদের মাথা খাটিয়ে নতুন কিছু স্থাপন করা।