শিরোনাম :

  • ,

স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ

0001নিজস্ব প্রতিনিধি: দক্ষিণ আফ্রিকার পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও বড় জয় পেয়েছে মেহেদি হাসান মিরাজ বাহিনী। রবিবার কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে নামিবিয়াকে ১১৪ রানে হারায় বাংলাদেশ। সেই সুবাদে টানা দুই জয়ে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যায় যুব টাইগারদের।

টাইগারদের ছুঁড়ে দেওয়া ২৫৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে স্কটল্যান্ড স্বাগতিকদের বোলিং তোপে পড়ে ৪৭.২ ওভারে ১৪২ রান তুলতেই গুটিয়ে যায়।

সকাল টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্কটিশরা। নাজমুল হোসেন শান্তর অনবদ্য শতকে ভর করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৬ উইকেট হারিয়ে স্কটিশদের ২৫৭ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয়।

শান্ত অপরাজিত থেকে ১১৩ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়া টাইগারদের দলপতি মেহেদি হাসান মিরাজ ৫১ ও ওপেনার সাইফ হাসান ৪৯ রান করে দলের স্কোরে ভূমিকা রাখেন।

টাইগার যুবাদের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন সাইফ হাসান ও পিনাক ঘোষ।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বিদায় নেন পিনাক ঘোষ। মোহাম্মদ গাফফারের বলে এলবির ফাঁদে পড়ে শূন্য রানেই ফেরেন তিনি। অষ্টম ওভারের শেষ বলে গাফফারের দ্বিতীয় শিকারে ফেরেন ১৩ রান করা জয়রাজ শেখ।

দলীয় ১৭ রানের মাথায় দুই উইকেট হারানোর পর জুটি বাঁধেন সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এ দুই টাইগার ব্যাটসম্যান স্কোরবোর্ডে আরো ১০১ রান যোগ করেন।

দলীয় ১১৮ রানের মাথায় মিচেল রাওয়ের বলে বোল্ড হন সাইফ হাসান। টাইগার এ ওপেনার অর্ধশতক থেকে মাত্র এক রান দূরে থাকতে বিদায় নেন।

বিশ্বমঞ্চে টানা দ্বিতীয় অর্ধশতকের দেখা পান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শান্ত। ৭১ বলে অর্ধশতকের দেখা পান তিনি। আর ১১১ বলে সেই অর্ধশতককে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে নিয়ে যান ইনফর্ম এই ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ারে ১৭০০ রানের পাশাপাশি যুবাদের ওয়ানডেতে এখন সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী শান্ত।

শান্তর দিনে অর্ধশতকের দেখা পান টাইগারদের দলপতি মেহেদি হাসান মিরাজ। ৪৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। ৪৮ বলে ৫১ রান করে মোহাম্মদ গাফফারের তৃতীয় শিকারে বিদায় নেন মেহেদি।

ইনিংসের ৪৮তম ওভারে আউট হওয়ার আগে মেহেদি চারটি বাউন্ডারি হাঁকান। শান্তর সঙ্গে ১০০ রানের জুটিও গড়েন টাইগার দলপতি।

স্কটিশদের হয়ে ব্যাটিং শুরু করতে ওপেনিংয়ে নামেন ররি জন্সটন ও নেইল ফ্লাক। ইনিংসের ১৩তম ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজ ব্যক্তিগত ২৮ রান করা ফ্লাককে ফিরিয়ে দেন। একই ওভারের শেষ বলে রান আউটের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন ওয়াইস শাহ।

ইনিংসের ১৯তম ওভারে আরিফুল ইসলাম ফেরান ওপেনার ররি জন্সটনকে। এলবির ফাঁদে পড়ে বিদায় নেওয়ার আগে স্কটিশ এই ওপেনার করেন ৫২ বলে ২০ রান।

ইনিংসের ২৯তম ওভারে আরিফুল ইসলাম তার দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন জ্যাক ওয়ালারকে ফিরিয়ে। ওয়ালার ২৪ রান করে শাওনের তালুবন্দি হয়ে ফেরেন।

সাজঘরে ফেরার আগে আজিম দারকে সঙ্গে নিয়ে ৩৩ রান যোগ করেন ওয়ালার। ৩৮তম ওভারে স্কটিশ শিবিরে আঘাত হানেন সালেহ আহমেদ শাওন। ম্যাকক্রিথকে (৮) এলবির ফাঁদে ফেলেন তিনি।

৪০তম ওভারে শাওন তার দ্বিতীয় শিকার তুলে নিতে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন হারিস আসলামকে (২)। ৪২তম ওভারে তৃতীয় শিকার তুলে নেন শাওন। বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন ২ রান করা রায়ান ব্রাউনকে।

৪৪তম ওভারে নিজের প্রথম উইকেটের দেখা পান সাইফুদ্দিন। হারিস কার্নেজিকে (১) বোল্ড করেন তিনি। এক ওভার পর আবারো বোলিং আক্রমণে এসে বোল্ড করে সাজঘরের পথ ধরান মিচেল রাওকে (২)।

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে আজিম দার ৫০ রান করেন। তিনিও সাইফুদ্দিনের বলে বিদায় নেন।

টাইগারদের হয়ে সালেহ আহমেদ শাওন ১০ ওভার বল করে ২৭ রান খরচায় নেন তিনটি উইকেট। ১০ ওভারে ২৮ রানের বিনিময়ে আরও দুটি উইকেট দখল করেন আরিফুল ইসলাম।

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ৭.২ ওভারে ১৭ রান খরচ করে পান তিনটি উইকেট। একটি উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ।

এ ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশে ছিলেন না স্পিনার সঞ্জিত সাহা। বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আইসিসির আপত্তির কারণে তাকে এ ম্যাচে মাঠে নামায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। তার বদলি হিসেবে দলে আসেন আরিফুল হক।

‘এ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে মেহেদি হাসান মিরাজের দল।

৪৩ রানে প্রোটিয়াদের হারায় নাজমুল হোসেন শান্ত, পিনাক ঘোষ, সাঈদ সরকার, জয়রাজ শেখরা। অপরদিকে, স্কটল্যান্ডকে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারতে হয় নামিবিয়ার বিপক্ষে।

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি একই ভেন্যুতে নামিবিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগার যুবারা।