কুনিও হত্যায় জেএমবি কমান্ডার মাসুদের স্বীকারোক্তি

kunioনিজস্ব প্রতিনিধি: রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির এক আঞ্চলিক কমান্ডার।
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হুমায়ুন কবীর তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আটক ব্যক্তির নাম মাসুদ রানা (৪০)। তার বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলায়। তিনি কুনিওকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।’

ডিআইজি হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘জেএমবির রংপুর অঞ্চলের ‘কমান্ডার’ মাসুদ রানা। বৃহস্পতিবার কাউনিয়ার কল্যাণী ইউনিয়নের পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়ায় তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে আমরা এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করিনি।’

ইতোমধ্যে তাকে কুনিও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গতকাল সোমবার মাসুদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ডিআইজি হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘জেএমবি নেতা মাসুদ রানাই কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতারমোড়ে গত ১০ নভেম্বর মধ্যরাতে মাজার শরীফের খাদেম রহমাত আলীকে (৬৬) কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যায় জড়িত।’

তিনি বলেন, ‘এছাড়া গত ৮ নভেম্বর বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালকের পিএস রুহুল আমীনকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনাতেও তিনি জড়িত।’

গত ৩ অক্টোবর সকালে রংপুর শহরের উপকণ্ঠে কাউনিয়া উপজেলার কাচু আলুটারি গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি। তিনি ওই এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা এবং কৃষিকাজ করতেন।
এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় পুলিশ বাদী একটি মামলা করে। ওই মামলায় আগে থেকেই এক স্থানীয় বিএনপি নেতাসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার আছেন।

এ ঘটনার জন্য বিএনপি এবং জামায়াতকে দায়ী করে আসছে সরকার। সরকারি দলের নেতারা বলছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। তবে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষ থেকে ওই দাবি নাকচ করে দেয়া হয়েছে।

ওই ঘটনার পর ইসলামিক স্টেট এ হত্যার দায় স্বীকার করে বলে একটি মার্কিন ওয়েবসাইটের খবরে বলা হয়েছিল। সরকার তাও নাকচ করে দেয় এবং দাবি করে যে বাংলাদেশে আইএসের কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি নেই।