ভারতের শীর্ষ তিন মিডিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে মোদি সরকারের বিজ্ঞাপনী অস্ত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের সংবাদপত্র বিষয়ক তিনটি বড় গ্রুপের সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ অথবা কমিয়ে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়ে জানিয়েছে এরা হলো টাইমস গ্রুপ, এবিপি গ্রুপ এবং দ্য হিন্দু পত্রিকা। টাইমস গ্রুপ নিয়ন্ত্রণকারী বেনেট, কোলম্যান অ্যান্ড কোং-এর একজন নির্বাহী বলেছেন, প্রকাশিত কোনো কোনো রিপোর্ট নিয়ে সরকার অসন্তুষ্ট হওয়ার কারণে সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়া হয়ে থাকতে পারে। বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়ার এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিরোধী কংগ্রেস পার্টি। তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞাপন বিষয়ক এজেন্সি হলো ব্যুরো অব আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন। এর মহাপরিচালক সত্যেন্দ্র প্রকাশের সঙ্গে এ বিষয়ে ইমেইল ও ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেন রয়টার্সের সাংবাদিক। কিন্তু তিনি এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেন নি।

এ খবর দিয়ে ভারতের অনলাইন স্ক্রল ডট ইন বলছে, বেনেট, কোলম্যান অ্যান্ড কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করে টাইমস গ্রুপকে। এর একজন নির্বাহী বলেছেন, (বিজ্ঞাপন) বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হতে পারে এ জন্য যে, কিছু রিপোর্টে তারা (সরকার) অসন্তুষ্ট হয়েছে। টাইমস গ্রুপের মোট বিজ্ঞাপনের শতকরা প্রায় ১৫ ভাগই আসে সরকারি পর্যায় থেকে। এই গ্রুপটি প্রকাশ করে প্রভাবশালী টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দ্য ইকোনমিক টাইমস।

ওদিকে এবিপি গ্রুপের দু’জন কর্মকর্তা বলেছেন, গত ৬ মাসে তাদের সরকারি বিজ্ঞাপন কমে গেছে শতকরা ১৫ ভাগ। একজন নির্বাহীর ভাষায়, যদি আপনার সম্পাদকীয় কাভারেজ সরকারি নিয়মের অধীনে না থাকে এবং আপনি যদি সরকারের বিরুদ্ধে কিছু লেখেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে শাস্তি দিতে তাদের একমাত্র উপায় হলো বিজ্ঞাপন সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া। আরেকজন নির্বাহী বলেছেন, বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো কিছুই তাদেরকে জানানো হয়নি। এক্ষেত্রে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে অবশ্যই অক্ষুন্ন রাখতে হবে। এসব সত্ত্বেও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাকে অব্যাহত রাখতে হবে। এই গ্রুপটি প্রকাশ করে দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা। এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে জাতীয় নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বেকারত্ব সব বিষয়ে যে রেকর্ড রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল।

স্ক্রল আরো লিখেছে, দ্য হিন্দু পত্রিকায়ও সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বিজ্ঞাপন কমে গেছে বলে তারা দেখতে পেয়েছে। তারা ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে রাফালে বিমান কেনা নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে তাতে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। এরপর থেকেই তাদের বিজ্ঞাপন কমা শুরু হয়েছে।

এর সমালোচনা করেছেন লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকার থেকে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়ার অগণতান্ত্রিক ও জোর যার মুল্লুক তার স্টাইল হলো মিডিয়ার প্রতি এই সরকারের একটি বার্তা। তা হলো, তাদের নিয়ন্ত্রণে বা তাদের নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপির মুখপাত্র নলিন কোহলি। তিনি বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচুর সমালোচনা হচ্ছে। এটাই তো মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রমাণ। কিন্তু বিজেপি মুক্ত সংবাদ মাধ্যমের গলা টিপে ধরেছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা হাস্যকর।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১৪০তম। আফগানিস্তান, মিয়ানমার, ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো থেকেও নিচে অবস্থান করছে ভারত। যখন এই সূচক ২০০২ সালে প্রথম প্রকাশ হওয়া শুরু করে তখন ১৩৯টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ছিল ৮০তম।