সম্পাদক পরিষদ থেকে নঈম নিজামের পদত্যাগ, বিরোধ কি আনভির-মুনিয়া ইস্যুতে?

নঈম নিজাম

নিউজ ডেস্ক :

সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়লেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক  নঈম নিজাম। পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, ‘উদ্ভূত কিছু পরিস্থিতির কারণে সম্পাদক পরিষদের সভাপতির সঙ্গে নীতিগত মনোভঙ্গি একমত না থাকার কারণে আমি সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বসুন্ধরা গ্রুপের সংবাদপত্র ও অনলাইনে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত খবরে সম্পাদক পরিষদের একটি সূত্রের বরাতে জানানো হয়, পরিষদ সভাপতি ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম সংগঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে সংবাদপত্র মালিকদের কারও কারও বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ এনে ব্যক্তিগত কুৎসাচারে লিপ্ত হন। বিষয়টি নিয়ে সভাপতি মাহফুজ আনামের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নঈম নিজামের তীব্র মতভেদ দেখা দেয়। সাধারণ সম্পাদক কুৎসাচার প্রচার থেকে সভাপতিকে নিবৃত্ত করার জন্য বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এ পর্যায়ে সাধারণ সম্পাদক হুঁশিয়ারি দেন যে, পরিষদ সদস্যদের সম্পাদিত পত্রিকার মালিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া সভাপতির অশোভন ও অনৈতিক ভূমিকার বিরুদ্ধে তিনি প্রকাশ্য অবস্থান নেবেন। অবশেষে নঈম নিজাম সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদে ইস্তফা দিলেন।

সম্পাদক পরিষদ থেকে সাধারণ সম্পাদক নঈম নিজামের পদত্যাগের খবরটি বসুন্ধরা গ্রুপের সংবাদমাধ্যম ছাড়া অন্য কোন সংবাদপত্র বা সংবাদমাধ্যমে  বুধবার সকাল পর্য ন্ত চোখে পড়েনি। বসুন্ধরা গ্রুপের পত্রিকাগুলোতে পদত্যাগী নঈম নিজামের ছবির সঙ্গে সভাপতি ডেইলী স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের ছবিও প্রকাশ করা হয়। সচরাচর এমনটা দেখা যায়। নিউজটিও প্রথম পৃষ্ঠায় দুই কলামে গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়।

সম্পাদক পরিষদ গঠনের পর থেকেই দেশের সংবাদপত্রের সম্পাদকদের একাংশ এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন। কারণ পরিষদের উদ্যোক্তারা যাদের পছন্দ করেন কেবল তাদেরেই এ পরিষদের সদস্য করা হয়েছে। বিশেষত ক্ষমতাসীন সরকারন্থী ও একই ঘরানার প্রভাবশালী সম্পাদকদের নিয়ে এটি গঠিত হয়। এর বিপরীতে মধ্যম সারির সংবাদপত্র ও টিভির কর্তারা ‘এডিটর্স গিল্ড’ নামে আরেকটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যার মূল উদ্যোক্তা একাত্তর টিভির মোজাম্মেল বাবু। যদিও সেখানেও অধিকতর সরকারঘনিষ্টদেরই স্থান হয়েছে।

এদিকে নঈম নিজামের পদত্যাগের নেপথ্য কারণ হিসেবে কলেজছাত্রী মুনিয়ার আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা ও এ নিয়ে ডেইলী স্টার ও প্রথম আলোর ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত করছেন সংশ্লিষ্টরা। মুনিয়ার আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা থেকে বসুন্ধরার এমডি আনভিরকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ আদালতে যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে তার সমালোচনা করে বিশিষ্ট নগরিকদের  দেয়া বিবৃতি ও নিবন্ধ প্রকাশ নিয়ে সম্পাদক পরিষদের সংকট তৈরী হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এ দিকে প্রথম আলো সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে হেনস্থা ও গ্রেফতারের পর সম্পাদক পরিষদ কড়া বিবৃতি দিয়ে তার প্রতিবাদ জানায়। এ বিষয়েও সম্পাদক পরিষদের নেতারা পুরোপুরি একমত ছিলেন না বলে কেউ কেউ বলছেন। সম্পাদক পরিষদ মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিক নির্যাতন নিয়ে সচরাচর এমন প্রতিক্রিয়া ও বিবৃতি দেয় না।

সম্পাদক পরিষদ গঠিত হওয়ার পর সবচেয়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা নেয়া হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে পরিষদ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত সংখ্যক সম্পাদক এভাবে রাস্তায় দাঁড়ানোর ঘটনা এটিই ছিল প্রথম। এ নিয়ে সরকারে অস্বস্তি তৈরী হলে তথ্যমন্ত্রীর অনুরোধে প্রথমে মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। পরে কয়েকজন সম্পাদকের অনমনীয় মনোভাবে তা বাস্তবায়িত হয়। যদিও সম্পাদক পরিষদের ওই প্রতিবাদকে আমলে না নিয়ে সরকার আইনটি তাদের মত করে পাশ ও কার্যকর করে।

মাহফুজ আনাম ও নঈম নিজামের এ বিরোধের জের কতটুকু গড়ায় তা দেখার বিষয়। এ পেছনে যে প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা রয়েছে তা অনুমান করছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা।

Print Friendly, PDF & Email