নাগালে পেয়েও ভারত বধ হলো না, বিফলে মোস্তাফিজের ৫ উইকেট


স্পোর্টস ডেস্ক : নাগালে পেয়েও ভারত বধ করা হলো না টাইগারদের। শেষ হলো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ। ভারতের কাছে ২৮ রানে হেরে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন ভাঙলো তাদের। আর মাশরাফির দলকে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করলো ভারত।

সাকিব আল হাসান আউট হওয়ার পর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে নিয়ে লড়াই করছিলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু তাকে ফিরিয়ে ৪৬ রানের জুটি ভাঙেন জসপ্রীৎ বুমরাহ। ৩৬ বলে ৫ চারে ৩৬ রান করেন সাব্বির। পরের ওভারে মাশরাফি মুর্তজা একটি ছক্কা মারার পরের বলে ভুবনেশ্বর কুমারের শিকার হন। ৮ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৩৭ বলে সাইফ হাফসেঞ্চুরি করলেও ৪৮তম ওভারে বুমরাহ পরপর রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমানকে ফেরান। ৪৮ ওভারে ২৮৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

সাকিবের আউটে বিপদে বাংলাদেশ

আশার মশাল হাতে ক্রিজে টিকে ছিলেন সাকিব আল হাসান। অন্যপ্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও বাংলাদেশের ভক্তদের আশা হয়ে ছিলেন তিনি। বিশ্বকাপে ফর্মে থাকা এই ব্যাটসম্যান চেষ্টা করেও পারলেন না।

৬৬ রানে আউট হয়ে গেছেন সাকিব। হার্দিক পান্ডিয়ার বলে এক্সট্রা কভারে সহজ ক্যাচ দেন তিনি দিনেশ কার্তিকের হাতে। অন সাইডে শক্তিশালী সাকিবকে শুরু থেকেই লেগ স্টাম্প বরাবর বল করছিলেন ভারতীয় বোলাররা। হার্দিকের এই ডেলিভারিও ছিল তার পা বরাবর, কিন্তু ‍ব্যাকফুটে গিয়ে সাকিব অন সাইডে খেলছিলেন চেয়েছিলেন। তাতে মৃত্যু হলো তার সুন্দর ইনিংসের। ৭৪ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৬ বাউন্ডারিতে।

মোসাদ্দেকের বিদায়ে চাপ বাড়লো

মোসাদ্দেক হোসেন নিজেকে প্রমাণের বড় সুযোগ পেয়েছিলেন ভারতের বিপক্ষে। লিটন দাসের আউটের পর সাকিব আল হাসানের সঙ্গে জুটি গড়ে জয়ের ভিত গড়তে পারতেন তিনি। কিন্তু হলো না। বোল্ড হয়ে ফিরে বরং চাপ আরও বাড়িয়ে গেছেন তিনি।

জসপ্রিৎ বুমরাহ শিকার মোসাদ্দেক। এই পেসারের স্লোয়ার তার ব্যাটের নিচের দিকে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। যাতে ৭ বলে ৩ রানে শেষ হয় মোসাদ্দেকের ইনিংস।

ফিরে গেলেন লিটন

ছক্কা মেরে লিটন দাস বুঝিয়ে দিলেন তার ক্ষমতা। হার্দিক পান্ডিয়াও নীরব থাকলেন না, এক বল বিরতি দিয়ে তুলে নিলেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের উইকেট। হার্দিকের বলেই ১৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন লিটন।

শর্ট বলে আউট হয়েছেন লিটন। হার্দিকের খাটো লেন্থের বল পুল করতে গিয়ে তিনি ক্যাচ অনুশীলন করিয়েছেন দিনেশ কার্তিককে। আউটের আগে সাকিবের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ‍গড়ে যান ৪১ রানের জুটি।

সাকিবের হাফসেঞ্চুরি

ব্যাটে বসন্ত চলছে সাকিব আল হাসানের। বিশ্বকাপে আরেকটি হাফসেঞ্চুরি পূরণ করলেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে পেয়েছেন চলতি আসরের চতুর্থ ফিফটির দেখা।

২৮তম ওভারে হার্দিক পান্ডিয়ার শেষ বলে ২ রান নিয়ে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন সাকিব। ৫৮ বলে পান ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৬তম ফিফটির দেখা। এবারের বিশ্বকাপের ‘রানমেশিন’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও খেলেছিলেন ৫০ ছাড়ানো ইনিংস। চার হাফসেঞ্চুরির সঙ্গে সাকিব বিশ্বকাপে করেছেন দুটি সেঞ্চুরিও।

পারলেন না মুশফিক

দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারকে হারানোর পর হাল ধরেছিলেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। তাদের ব্যাটে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। তবে সেটা ধরে রাখা হলো না মুশফিকের বিদায়ে।

ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার কাছে প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু পারলেন না মুশফিক। যুজবেন্দ্র চাহালের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন তিনি ২৪ রান করে। শুরুটা ভালো হলেও চাহালের বলে সুইপ করতে গিয়ে মোহাম্মদ সামির হাতে ধরা পড়েন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে সাকিবের সঙ্গে গড়েন যান ৪৭ রানের জুটি।

বাজে শটে আউট সৌম্য

শুরুটা ধীরে হলেও দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারলেন না বাংলাদেশ ওপেনার। বাজে শট খেলে ৩৩ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন তিনি।

হার্দিক পান্ডিয়ায় খাটো লেন্থের ওয়াইড ডেলিভারি খেলতে অনেকটা সময় পেয়েছেন সৌম্য। এরপরও ঠিকঠাক খেলেতে পারেননি তিনি। এক্সট্রা কভারে বলের ঠিক সোজা দাঁড়িয়ে থাকা ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির তালুবন্দী করতে কোনও অসুবিধাই হয়নি। হার্দিকের বাজে বলে বাজে শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন সৌম্য।   

তামিম বোল্ড

পারলেন না তামিম ইকবাল। বিশ্বকাপে আরেকবার হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হলো এই ওপেনারকে। তার আউটে বাংলাদেশ হারিয়েছে প্রথম উইকেট। ৩১ বলে ২২ রান করেছেন তিনি।

ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে সতর্ক শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার সাবধানী ব্যাটিং করলেও তামিম ছিলেন কিছুটা আক্রমণাত্মক। রোহিত শর্মার ক্যাচ মিস করার শাপমোচনের সুযোগ ব্যাটিংয়ে থাকলেও পারলেন না তিনি। মোহাম্মদ সামির বলে বোল্ড হয়ে গেছেন তামিম। বল তার ব্যাটে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে।

বাংলাদেশের লক্ষ্য ৩১৫

তামিম ইকবালের ‘সৌজন্যে’ পাওয়া ‘দ্বিতীয় জীবন’ কাজে লাগিয়ে রোহিত শর্মা পেলেন এবারের বিশ্বকাপের চতুর্থ সেঞ্চুরি। তার সঙ্গে লোকেশ রাহুলের উদ্বোধনী জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় ‍ভারত। যদিও মোস্তাফিজুর রহমানের ‍চমৎকার বোলিংয়ে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ালে সেটা হয়নি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ভারত করতে পেরেছে ৩১৪ রান।

এজবাস্টনের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বাঁচা-মরার। সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই ম্যাচে জয় ছাড়া কোনও পথ নেই। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে রোহিত-লোকেশের ব্যাটে উদ্বোধনী জুটি থেকে ভারত পায় ১৮০ রান। রোহিতের সেঞ্চুরির (১০৪) সঙ্গে লোকেশ (৭৭) পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি। এরপরও প্রত্যাশামতো স্কোর পায়নি ভারত মোস্তাফিজের ৫ উইকেট প্রাপ্তিতে।

বাংলাদেশি পেসারের শিকার বিরাট কোহলি (২৬), হার্দিক পান্ডিয়া (০), মহেন্দ্র সিং ধোনি (৩৫), দিনেশ কার্তিক (৮) ও মোহাম্মদ সামি (১)। মোস্তাফিজের বলেই ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এক ওভারে এই পেসার কোহলি ও হার্দিককে প্যাভিলিয়নে ফেরালে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় টাইগাররা। যে আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে সাফল্য পেয়েছেন সাকিব আল হাসান (১/৪১) ও রুবেল হোসেন (১/৪৮)। বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেওয়া সৌম্য সরকার ৩৩ রান দিয়ে পেয়েছেন রোহিতের উইকেটটি।

বার্মিংহামের এজবাস্টনে আজকের ম্যাচটি টাইগারদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জয় পেলেই সেমির আশা বাঁচবে মাশরাফি বাহিনীর। অন্যদিকে ভারত এরই মধ্যে এক পা দিয়ে রেখেছে সেমিতে। আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতলেই শেষ চারে যাওয়া পাকা হবে টিম ইন্ডিয়ার ।

মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত
এ যাবৎ বাংলাদেশ ও ভারত ৩৫টি ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ ৫টি ও ভারত জয় পেয়েছে ২৯টিতে। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। 

বিশ্বকাপে দুই দল
বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত তিনবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ভারত ২টি ও বাংলাদেশ জিতেছে ১টি ম্যাচে।

বাংলাদেশ একাদশ
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, লিটন দাস, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, মাশরাফি বিন মুর্তাজা। 

ভারত একাদশ
রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল, বিরাট কোহলি, ঋশব পান্ট, হার্দিক পান্ডিয়া, মহেন্দ্র সিং ধোনি, ডিনেশ কার্তিক, ভুনেশ্বর কুমার, মোহাম্মদ শামি, জসপ্রিত বুমরাহ, জুজবেন্দ্র চাহাল।