শিরোনাম :

  • রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯

খালেদা জিয়াবিহীন বিএনপির প্রাণহীন ইফতার রাজনীতি

সানাউল্লাহঃ প্রতিবছর রমজানকে ঘিরে ইফতার-রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়, বিএনপির ক্ষেত্রে এবার সেটা দেখা যাচ্ছে না। দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন। তার অনুপস্থিতির কারণে রমজান মাসকে ঘিরে বিএনপির রাজনীতিতে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকত এবার সেটি নেই বলে দাবি করেছেন বিএনপি ও তাদের মিত্র দলের নেতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় একজন নেতা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলে যে পরিস্থিতি হয় সেটাই হয়েছে। যে কারণে এত বড় একটা সংগঠন, যার অর্ধসহস্রাধিক কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন, তারপরও দলের কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে।’

দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীরা চেয়ারপারসনকে অনেক ভালোবাসেন। প্রতি বছর রমজানে চেয়ারপারসনের সঙ্গে নেতাকর্মীরা ইফতারে অংশ নেন। এবার তার অনুপস্থিতিতে নেতাকর্মীদের মন খারাপ। তাদের মনে অনেক ক্ষোভ। মনের কষ্ট নিয়ে রমজান মাস উদযাপন করছেন তারা। খালেদা জিয়া থাকলে তাকে নিয়ে ইফতারে করতেন, একসঙ্গে মোনাজাতে অংশ নিতেন, সেটা থেকে এবার নেতাকর্মীরা বঞ্চিত।’

রমজানের প্রথম ইফতার বরাবরই এতিম ও আলেমদের সম্মানে আয়োজন করে থাকে বিএনপি। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের সম্মানে, পেশাজীবীদের সম্মানে, রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে ছাড়াও বিভিন্ন কমিউনিটির সম্মানে দলটির পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে দলটি। এ ছাড়া অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো এবং ঢাকা মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকেও ইফতারের আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোতে আগের সেই আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

তবে দলের কার্যক্রম ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও চলছে বলে জানালেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল আউয়াল খান। তিনি বলেন, ‘সাংগঠনিক মাস তো আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। দলের পুনর্গঠন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে ম্যাডাম থাকলে জমকালো যে ইফতার মাহফিল হতো সেটা হচ্ছে না। তবে ক্ষুদ্র পরিসরেও এ কার্যক্রম চলছে।’

দলীয় কর্মকাণ্ডে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রভাব পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম না থাকার কারণে দলের কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়বে-এটাতো স্বাভাবিক ব্যাপার। তার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব পড়বে, মানুষের হৃদয়ে প্রভাব পড়বে-এটাই স্বাভাবিক। তারপরেও ওনার এই অভাবকে বা ওনার এই কারাবরণকে আমরা যেমন বলি শোক নয়, শক্তিতে পরিণত করুন।’

তিনি আরও বলেন, খালেদার কারাবরণকে চরম চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে আমরা তার মুক্তির আন্দোলনকে জোরদার করার জন্য চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় পুনর্গঠনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। সেখানে ওনার সুযোগ্য সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ওনার নেতৃত্বে আমরা দলকে পুনর্গঠন করে, শক্তিশালী করে এই স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে দেশত্রেীকে মুক্ত করব।’

দলীয় সূত্র জানায়, প্রতি বছর রমজানে খালেদা জিয়া থাকা অবস্থায় নেতাকর্মীদের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল এবার সেটা নেই। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের পরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘সব দলের মধ্যেই একটা সংকটকালীন সময় থাকে। এখন বিএনপিরও সেই সময় যাচ্ছে। তবে এই সময়টা অচিরেই কেটে যাবে। তিনি বলেন, আমরা এখনো আশা ছাড়েনি। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে আগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে বলে আমার বিশ্বাস।

বিএনপির এই নাজুক পরিস্থিতিতে দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দল এবং জোটের কার্যক্রমে অবশ্যই প্রভাব পড়েছে। নেত্রী উনি একটা বিশাল মানুষ। তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এখন যিনি বিএনপি পরিচালনা করছেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তার নেতৃত্বের দক্ষতা নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে। তার সঙ্গে দেশনেত্রীর তুলনা করা যাবে না।’