কয়েকজন নেতাই কি মাফিয়া চরিত্রসম্পন্ন?

বদরুদ্দীন উমরঃ

কাড়ানাকাড়া বাজিয়ে আওয়ামী লীগের যে আত্মশুদ্ধি অভিযান ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে, তা এখনও অব্যাহত আছে। এই অভিযান চলাকালে আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিক দলগুলোর অবস্থান, কথাবার্তা ও হুমকির থেকে মনে হয় যেন খোদ আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গসংগঠনের মাত্র কয়েকজন নেতাই মাফিয়া চরিত্রসম্পন্ন।

তারা চোর, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, জুয়াড়ি ইত্যাদি। এসব কাজ করে উচ্চপর্যায়ের কিছু নেতা শত শত, এমনকি হাজার হাজার কোটি টাকা পকেটস্থ করেছে; কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা যেসব সংগঠনের নেতা সেই সংগঠনগুলো ঠিকই আছে।

এই চিন্তার কারণেই দেখা যায় যে, শুদ্ধি অভিযানের সময় শুধু কয়েকজন নেতাকেই ধরপাকড় করা হয়েছে এবং এই ক্রিমিনালদের মধ্যে যারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে, তাদেরকে গ্রেফতার করার ‘উদ্যোগ’ চলছে।

কিন্তু এই চিন্তা সম্ভবত শূন্যগর্ভ। কারণ কোনো সংগঠনের শুধু উচ্চপর্যায়ের নেতারাই দোষী ও ক্রিমিনাল, বাকি মাঝারি ও নিচের পর্যায়ের নেতারা এবং নেতৃস্থানীয় কর্মীরা নিরীহ, এটা হতে পারে না। ডাকাত দলের সর্দার থাকে; কিন্তু দলের অন্য সবাই ডাকাত। এ বিষয়টিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই এখন আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযান চলছে।

শুধু অঙ্গসংগঠনগুলোর ক্ষেত্রেই একথা প্রযোজ্য, এমন নয়। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য ছোটখাটো অঙ্গসংগঠনের নেতাদের অনেকে ক্রিমিনালে পরিণত হয়েছে; তারা চুরি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জুয়া, সন্ত্রাস ইত্যাদিতে লিপ্ত আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগই হল এসব সংগঠনের পিতৃসংগঠন।

আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যদের কোনো অস্তিত্ব নেই। কাজেই এই অঙ্গসংগঠনগুলো যদি সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত হয় তাহলে তাদের পিতৃসংগঠন ধোয়া তুলসীপাতা হবে, এটা হতে পারে না। স্বয়ং আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতার মুখেই এমন কথা শোনা যাচ্ছে, যাদের মধ্যে খোদ তাদের দলের সাধারণ সম্পাদকও আছেন।

তিনি প্রায় প্রতিদিনই বলে যাচ্ছেন, অপরাধীদের ক্ষেত্রে তাদের ‘জিরো টলারেন্সের’ কথা। এখানে বলা দরকার যে, যখনই এসব অপরাধ ও অপরাধীদের কথা ওঠে, তখনই তাদের মুখে শোনা যায় ‘জিরো টলারেন্সের’ কথা। তাদের কল্যাণে এ দুই শব্দ এখন পরিণত হয়েছে একটা বাঁধাধরা বুলির মতো, বাস্তবে যার কোনো কার্যকারিতা নেই।

কারণ ‘জিরো টলারেন্স’ বললেও বাস্তবত সারা দেশে এমন অপরাধীদের প্রতি টলারেন্সই দেখা যাচ্ছে। এ কারণে দেশে এখন অপরাধীদের যে শাস্তি নেই, একথা শাসক শ্রেণির অনেকের মুখেও শোনা যায়। অন্যেরা তো একথা বলেই থাকেন।

আসলে ‘জিরো টলারেন্সের’ বদলে টলারেন্সের কারণেই আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ইত্যাদির মধ্যে ব্যাপকভাবে অপরাধমূলক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।

২৮ সেপ্টেম্বর যুগান্তরের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘‘চাঁদা ও টেন্ডারবাজ এবং অবৈধ ক্যাসিনোবিরোধী চলমান অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু অভিযানের ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও নেপথ্যের ‘নায়করা’ এখনও অধরা।

অবৈধ ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালদের ধরতে না পারলে এ অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হবে। পাশাপাশি অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, গ্রেফতার হয়ে যারা রিমান্ডে আছেন, তারা জিজ্ঞাসাবাদে যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বলেছেন, তাদের যত দ্রুত সম্ভব আইনের আওতায় আনা জরুরি।

জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনীতিবিদ, পুলিশ ও প্রশাসনের বর্তমান ও সাবেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়িত থাকলেও তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। অপরাধের গভীরে গিয়ে এর মূল উৎপাটন করতে হবে।

বিশ্লেষকদের আরও অভিমত, যতই কালক্ষেপণ হবে, ততই কঠিন হবে মূল হোতাদের আটক করা। কারণ এ সময়ের মধ্যে তারা বিদেশে পাড়ি জমাতে পারে। শুধু তাই নয়, তাদের হাতে থাকা টাকা, ক্যাসিনো সরঞ্জাম, আগ্নেয়াস্ত্রও সরিয়ে ফেলতে পারে।’’

এই রিপোর্টে যেসব কথা বলা হয়েছে তার প্রকৃত অর্থ কী? অর্থ কি এই নয় যে, শুদ্ধি অভিযানের নামে সরকার যে তোপ দাগছে সে তোপে বারুদ নেই? এ প্রসঙ্গে আরও বলা দরকার যে, স্বাভাবিকভাবে এ ধরনের অভিযানে যেখানে পুলিশকে প্রধানত দায়িত্ব দেয়া হয়, সেটা তাদেরকে না দিয়ে দেয়া হয়েছে র‌্যাবকে!

এর অর্থ কি এই নয় যে, খোদ সরকারেরই কোনো আস্থা নেই পুলিশের ওপর? পুলিশের সঙ্গে অপরাধ জগতের যোগসাজশ ও লেনদেনের বিষয়টি কোনো গোপন ব্যাপার নয়। ক্যাসিনো বাণিজ্যের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক এবং লেনদেনের খবরাখবর ইতিমধ্যে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।

জুয়ার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ‘ইয়ংমেন্স ক্লাবের’ সঙ্গে পুলিশের বড় কর্তাদের যোগসাজশ ও লেনদেনের বিষয়ে সংবাদপত্রে যে রিপোর্ট বের হয়েছে এ বিষয়ে আমি গত সপ্তাহে যুগান্তরে লিখেছি।

কিন্তু শুধু পুলিশ নয়, সরকারের শরিক দলের নেতাদের সঙ্গেও ক্যাসিনো বাণিজ্যে জড়িত থাকার কথা প্রকাশিত হয়েছে। ইয়ংমেন্স ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে রাশেদ খান মেননের থাকা এরই এক অকাট্য প্রমাণ। তিনি এক্ষেত্রে যতই নিজের সাফাই গীত গেয়ে যান, এ সত্য সবাই স্বীকার করবেন।

২৮ সেপ্টেম্বর ‘গ্রেফতার এড়াতে মরিয়া সম্রাট, চলছে শেষ চেষ্টা’ শীর্ষক যুগান্তরের অন্য একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় সম্রাটকে অধিকাংশ নেতা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ সম্রাটের পক্ষে থাকলেও প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না।

গোপনে হয়তো কোথাও তার পক্ষে তদবির করার চেষ্টা করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সম্রাট রাজধানীর অভিজাত এলাকার এক প্রভাবশালী নেতার বাসায় এখন অবস্থান করছেন। সেখানে থেকে তিনি নিজেকে রক্ষা করার সব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে যে কোনো সময়ে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট টিমের সার্বক্ষণিক শ্যেনদৃষ্টি তার গতিবিধির দিকে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সম্রাটের অবস্থানের বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। সবুজ সংকেত পেলেই তাকে গ্রেফতার করা হবে।

অল্প কয়েকজন নেতার সঙ্গে নানা মাধ্যমে তিনি যোগাযোগ রাখছেন। এখন তার মূল লক্ষ্য হল, যে কোনো উপায়ে দেশত্যাগ করা।’ তাহলে আর বাকি থাকল কী? একথা অনেকেরই জানা এবং এখন খোদ দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, সম্রাট এখন ঢাকায় এক প্রভাবশালী নেতার বাসায় অবস্থান করছে।

‘সবুজ সংকেত’ পেলেই নাকি তাকে গ্রেফতার করা হবে। তাহলে সবুজ সংকেত ১০ দিন ধরে কেন দেয়া হচ্ছে না? নাকের ডগায় থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? এ থেকে কি এটা বোঝা যায় না যে, সম্রাটের মতো এক বিপজ্জনক ক্রিমিনালের সঙ্গে সরকারের নাড়ির যোগ কতখানি?

শুধু পুলিশই নয়, সমগ্র প্রশাসনের সঙ্গেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাদের গভীর সম্পর্ক। এ কারণেই প্রশাসন সম্রাটের মতো একজন ক্রিমিনালকে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিচ্ছে। ব্যাপারটা এতদূর গড়িয়েছে যে, এখন আওয়ামী লীগ ও তার শরিক দলগুলোর জোট ১৪ দল পর্যন্ত এ নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছে।

২৬ সেপ্টেম্বর এই জোটের এক সভা হয়। তাতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘কিছু রাজনৈতিক কর্মী দুর্বৃত্তে পরিণত হয়েছে। আমরা বিস্মিত হয়েছি, দুঃখ পেয়েছি। আরও বিস্মিত হয়েছি, ঢাকা শহরে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে অবৈধ ক্যাসিনোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে?

আমরা প্রশাসনের ব্যর্থতা ও নির্লিপ্ততার নিন্দা করি’ (যুগান্তর, ২৭.০৯.২০১৯)। প্রশাসন কাদের? শুধু প্রশাসনের নিন্দা করলেই হবে? ১৪ দল কি প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন? তার বাইরে? প্রশাসন কি তারা পরিচালনা করেন না?

মনে হয়, শুধু প্রশাসনের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে তারা নিজেদেরকে এসব অপরাধমূলক তৎপরতার বাইরে রেখে সাধুসন্ত সাজতে চান! কিন্তু এই প্রচেষ্টা কি গ্রহণযোগ্য? এটা কি এক বড় ধরনের অসততা নয়?

গুরুত্বের কারণে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের অন্য দু’একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতার বক্তব্য উদ্ধৃত করতে হচ্ছে। ‘গুটি কয়েকের জন্য দল বদনামের ভাগীদার হবে না’ শীর্ষক এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের এক আলোচনা সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অপকর্মের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। এই অ্যাকশন শুধু ঢাকা শহরে নয়, সারা বাংলায়।

… আজকে গুটিকয়েক অপকর্মকারী, গুটিকয়েকের দুর্নাম গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজের জন্য গোটা পার্টির বদনাম হতে পারে না’ (কালের কণ্ঠ, ২৯.০৯.২০১৯)। এছাড়া সভার সভাপতি আমীর হোসেন আমু জানান একই কথা। তিনি বলেন, ‘কোনো অপকর্মকারীকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না।

তাদের জন্য এত উন্নয়ন, অর্জন ম্লান হতে পারে না। আমাদের নেত্রী কষ্ট করে, পরিশ্রম করে যে অর্জন করেছেন, তা আমাদের গুটিকয়েকের জন্য ম্লান হতে দিতে পারে না’ (কালের কণ্ঠ, ২৯.০৯.২০১৯)।

বাস্তবত দেখা যাচ্ছে যে, ক্যাসিনো বাণিজ্যের বিষয়টি এখন জানাজানি হওয়ায় এবং তার বিরুদ্ধে সরকার ‘অ্যাকশন’ নিতে বাধ্য হওয়ার পর আওয়ামী লীগ মহল থেকে এখন আত্মরক্ষার্থে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, দলের সবাই খুব ভালো, উচ্চপর্যায়ের নেতারা ভালো। খারাপ শুধু গুটিকয়েক লোক!

এর থেকে বড় মিথ্যা আর কিছুই হতে পারে না। আজকে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর যে অবস্থা ক্যাসিনো বাণিজ্যের সংবাদ বের হওয়ার পর দাঁড়িয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে, এই দল ও তাদের সংগঠনগুলোর মধ্যে সামগ্রিকভাবেই পচন ধরেছে। কাজেই গুটিকতক লোক অপরাধ করছে এমন নয়।

হতে পারে গুটিকতক লোক এর সঙ্গে জড়িত নয়; কিন্তু বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এর সঙ্গে অবশ্যই জড়িত। এ সত্য যতই আড়াল করার চেষ্টা হোক, এর সত্যতা অস্বীকার করার উপায় নেই।

সম্রাটকে গ্রেফতার করা নিয়ে সরকারি মহল যে রহস্যজনক খেলা খেলছে এটা বাস্তবিকই বিস্ময়কর। তারা সম্রাটের অবস্থান ভালোভাবেই জানে; কিন্তু তবু তাকে গ্রেফতারের জন্য কোনো ‘সবুজ সংকেত’ এখনও পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। তার অবস্থান ভালোভাবে জানা সত্ত্বেও কেন তাকে গ্রেফতার না করে ‘আত্মগোপনে’ থাকতে দেয়া হচ্ছে?

তারা কি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার জন্য অপেক্ষা করছেন? ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে ‘গোয়েন্দাজালে সম্রাট’ শীর্ষক যুগান্তরের এক রিপোর্ট বলা হয়েছে, ‘‘ক্যাসিনো গডফাদার ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট গোয়েন্দাজালে আটকা পড়েছেন। তার অবস্থান নিয়ে নজরদারি প্রতিষ্ঠা করেছেন বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দারা।

তিনি যেখানে আত্মগোপন করেছেন সেখান থেকেই তথ্য আসছে সংস্থাগুলোর কাছে। যে কোনো সময় তাকে গ্রেফতার করা যেতে পারে। … সম্রাটের গ্রেফতার বিষয়ে শনিবার রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেখবেন, আপনারা নিশ্চয়ই দেখবেন। আপনারা অনেক কিছু বলছেন, আমরা যেটা বলছি ‘সম্রাট’ হোক আর যেই হোক, অপরাধ করলে তাকে আমরা আইনের আওতায় আনব।’’

সম্রাটের মতো এক শীর্ষস্থানীয় ক্রিমিনাল যে কত শক্তিশালী অবস্থানে আছে, এটা আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব এবং সরকারি লোকদের কথাবার্তা ও নিষ্ক্রিয়তার মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। সম্রাটের অবস্থানের কথা জানা সত্ত্বেও তাকে সহজে গ্রেফতারের ক্ষমতা সরকারের নেই! কারণ সরকারের উচ্চ মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। এই হল প্রকৃত অবস্থা। এ অবস্থায় সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের যে শেষ পর্যন্ত কী পরিণতি হবে, এটা বোঝার কোনো অসুবিধা কি আছে?

২৯.০৯.২০১৯

বদরুদ্দীন উমর : লেখ, কলামিস্ট