ডিজিটাল আইনের ৫টি ধারা সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজের সঙ্গে সঙ্গিতপূর্ণ নয়- বিক্ষোভ সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অন্তত ৫টি ধারা কোন সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করে সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, আইনটি সংসদে পাশের আগে গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিরোধী এসব ধারা বাতিল করা না হলে সাংবাদিক সমাজ ওই আইন অমান্য আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। অনির্বাচিত ও অগণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এ জঘন্য ও ভয়ঙ্কর আইন করছে বলেও মন্তব্য করেন সাংবাদিক নেতারা।

আজ ০১ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে কদম ফোয়ারা ঘুরে তোপখানা রোড প্রদক্ষিণ করে।

বিএফইউজে’র মহাসচিব এম আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে ও ডিইউজে’র দফতর সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজে’র সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বিএফইউজে’র সাবেক সহসভাপতি নুরুল আমিন রোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, জাতীয প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ডিইউজে’র সহসভাপতি খুরশিদ আলম, যুগ্ম সম্পাদক শাহীন হাসনাত, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এ কে মে মোহসিন, সাংবাদিক নেতা কায়কোবাদ মিলন, জাকির হোসেন, শাজাহান শাজু, জসিম মেহেদী, এইচ এম আল-আমিন, শাখাওয়াত ইবনে মঈন চৌধুরী, এম এম জসিম প্রমুখ।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, অবৈধ সরকার তাদের নানা অপকর্ম ঢাকতেই নতুন নতুন নিবর্তনমূলক আইন করছে। তারা জানে জনগণ সত্য জানতে পারলে তাদের মসনদ ভেসে যাবে। এক দিকে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় প্রটোকল নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন, অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী গণমানুষের নন্দিত নেত্রীকে মিথ্যা মামলায় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাস করে না। তারা সাগর-রুণী হত্যার বিচার করছে না। বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দিচ্ছে না। তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দেন রুহুল আমিন গাজী।

সভাপতির বক্তব্যে বিএফইউজে’র মহাসচিব এম আবদুল্লাহ বলেন, কুখ্যাত ৫৭ ধারা বিলুপ্ত করে যে কথিত ডিজিটাল আইন করা হচ্ছে এটি আধুনিক ও সভ্য সমাজের উপযোগী নয়। এটি একটি জংলী আইন। কোন গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরণের আইনের কথা কল্পনাও করা যায় না। তিনি বলেন, ৫৭ ধারা ভেঙ্গে ২৫, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারায় নতুনরূপে বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ৩২ ধারা সংযোজন করে মুক্ত গণমাধ্যমের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়া হয়েছে। কেবল অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাই নয়, এ আইন কার্যকর হলে কোন সাংবাদিকতাই আর করা যাবে না। তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পে ও কুইক রেন্টালের নামে যে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে তার তথ্য যাতে প্রচার ও প্রকাশ না করা যায় এবং ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য নতুন কালো আইন করছে সরকার।