বাজেট ব্যবসাবান্ধব হয়ে উঠবে, এটাই কাম্য

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাদের উদ্বেগের কারণটি বোধগম্য। বাজেটে বেশিরভাগ পণ্যের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে বা ভ্যাটের হার বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বেশকিছু শিল্প ও ভোগ্যপণ্যে আরোপ করা হয়েছে আগাম কর। এর ফলে শিল্প স্থাপন ও শিল্পপণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। এতে ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাবেন।

অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভার পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু ব্যবসায়ী সমাজ নয়, উদ্বেগের কারণ রয়েছে সাধারণ ভোক্তাদেরও। কারণ ব্যবসায়ীরা যে ভ্যাট ও করের বোঝা ভোক্তাদের কাছ থেকেই আদায় করবেন এটাই বাস্তবতা। অর্থাৎ বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাবে।

সত্য কথা বলতে কী, বাজারে ইতিমধ্যেই অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। বাড়বে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের দুর্ভোগ। কাজেই ভ্যাট ও আগাম করের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

উদ্বেগের জায়গাটি হল, বাজেটে অর্থ আইনের মাধ্যমে নতুন ভ্যাট আইনের ৩১ ধারা সংশোধন করে সব ধরনের আমদানি পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে আগাম কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, করযোগ্য আমদানির ওপর ৫ শতাংশ আগাম কর আদায় করতে হবে। আগে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি সংক্রান্ত কাস্টমসের একটি প্রজ্ঞাপনে দেয়া এইচএস কোডের তালিকা অনুযায়ী স্থানীয় উদ্যোক্তারা ১ শতাংশ শুল্ক দিয়ে ৬৫৯ ধরনের যন্ত্রপাতি আমদানি করতে পারতেন। এর বাইরে অন্য কোনো কর দিতে হতো না। কিন্তু এখন আমদানি পর্যায়ে সব আইটেমের ওপর আগাম কর আরোপ করায় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মূলধনী যন্ত্রপাতি আনতে বিদ্যমান ১ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে বাড়তি ৫ শতাংশ ভ্যাট (আগাম কর) দিতে হবে।

এর ফলে শিল্প স্থাপন ও উৎপাদন ব্যয় দুটোই বহুলাংশে বাড়বে। এতে নিরুৎসাহিত হবে বিনিয়োগ। কাজেই ভ্যাট ও করের বোঝা বাড়ানোর এ সিদ্ধান্তটি মোটেই বিনিয়োগবান্ধব নয়। বস্তুত শিল্পে এভাবে আগাম কর নেয়া হয়রানির শামিল। সরকারের ডুয়িং বিজনেস পলিসি যেখানে সহজ হওয়া উচিত, সেখানে এ ধরনের পদক্ষেপ মোটেই কাম্য নয়। বিশ্বের অনেক দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের স্বার্থে শিল্প খাতে নানা সুবিধা দেয়া হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আমাদের দেশে উল্টো পদক্ষেপ নেয়া হলে তা হবে দুর্ভাগ্যজনক। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত।

জানা গেছে, ভ্যাট ও করের হার বৃদ্ধির ফলে উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে বাজেট কার্যকর হওয়ার আগেই বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান ব্যবসায়ীরা। সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বাজেট পাসের আগেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে এবং তা কাজও শুরু করেছে। আমরা আশা করছি, অচিরেই এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে এবং তা ফলপ্রসূ হবে। এর মধ্য দিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রকৃতই ব্যবসাবান্ধব হয়ে উঠবে, এটাই কাম্য।