চাওয়া-পাওয়ার বিশ্লেষণ

হাসিনা-মোদীর ৩০ মিনিটের একান্ত বৈঠকে কী হয়েছে?

এম আবদুল্লাহ ।।

প্রায় তিন বছর পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের জন্য ভারত সফর করেছেন। এর আগে ২০১৯ সালের অক্টোবরে তিনি ভারত সফর করেন। জাতীয় নির্বাচনের আগের বছর শেখ হাসিনার এই সফরের গুরুত্ব নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-পর্যালোচনা। নানা পক্ষ যার যার আঙ্গিকে  বিশ্লেষণ করছে। মঙ্গলবার দিল্লির হায়দারাবাদ হাউজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। তার আগে দুই নেতা একান্তে আলোচনা করেন। ৩০ মিনিটের একান্ত আলোচনাই এই সফরের মূল প্রতিপাদ্য বলে ধারনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আর দেড় বছরেরও কম সময় বাকি। এই সময়ে দিল্লি সফর এবং দুই নেতার রুদ্ধদ্বার একান্ত বৈঠক খুবই তাতপর্যপূর্ণ বলে বিশ্বাস করেন বিশ্লেষকরা। ওই একান্ত বৈঠকে বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতি প্রাধন্য পাওয়া এবং নির্বাচন সামনে রেখে নানামুখি চাপ মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ বিগত তিনটি  জাতীয় নির্বাচনেই ভারত আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নিতে এবং রাখতে বেশ খোলামেলাভাবেই ভূমিকা নিয়েছিল।

টানা তেরো বছর ক্ষমতায় থেকে শেখ হাসিনার সরকার ভারতকে বাংলাদেশের জন্য স্পর্শকাতর চট্টগ্রাম এবং মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ বা ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্টের সুবিধা দিয়েছে। ভারতের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে- এমন সব ধরনের স্বাধীনতসকামী বা কথিত উগ্রবাদী গোষ্ঠীর শিকড় উপড়ে ফেলেছে। কিন্তু তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি ঝুলে রয়েছে লম্বা সময় ধরে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিশ্রুতির পরও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। যেমন বন্ধ হয়নি সীমান্তে নির্বিচারে মানুষ হত্যা। এসব বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আকাঙ্খা ও কৌতূহল ছিল।

তবে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মনে করে, ভারত আমাদের এক নম্বর শত্রু। ওরা সবকিছুতে আমাদের ঠকায়। বাণিজ্য করতে দেয় না। ব্যবধান পাহাড়সম। আমরা তাদের সিনেমা-টিভি-চ্যানেল দেখলেও ওরা আমাদেরগুলো দেখে না। আমরা ওদের বই পড়লেও ওরা আমাদেরগুলো পড়ে না। নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দেয় না। বর্যায় ডুবায়, গ্রীষ্মে পোড়ায়। সীমান্তে আমাদের মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা করে। সবকিছুতে ভারতের একটা স্পষ্ট ‘দাদাগিরি’ আছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কোনো সরকারপ্রধান যখন ভারত সফর করেন, তখন সবাই আশা করে এবার ‘একটা কিছু’ হবে। এবার পানি আসবে, সাহায্য আসবে, সহযোগিতা আসবে। ‘দাদাগিরি’ বন্ধ হবে। আরও অনেক কিছু হবে।

আমিও এর আগে এক লেখায় বলেছি- দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে কাঁটাগুলো রয়েছে তা বিছিয়েছে ভারত। সে কাঁটা সরানোর দায়িত্বও ভারতের। গত ১৩ বছরে বাংলাদেশ ভারতকে তাদের সব চাওয়া উজাড় করে দিয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-` ভারতকে আমি যা দিয়েছি তা তারা কখনও ভুলতে পারবে না‘। কিন্তু  প্রতিদানে উল্লেখ করার মত কিছুই দেয়নি ভারত। এখন যে বাংলাদেশকে ট্রানজিট দেওয়ার কথা বলছে তাতেও শুভংকরের ফাঁক রয়েছে। `কার্যকারিতা ও সম্ভাব্যতার ভিত্তিতে‘ এই অনুরোধ বিবেচনার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে ভারত। এর অর্থ হচ্ছে এই ট্রানজিট সুদূরপরাহত। অথচ ভারতকে যখন ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেই চুক্তিতেই বাংলাদেশের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার কথা।

সফরকালে দুই নেতার একান্ত এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও আলোচনার বিষয়গুলো বুধবার যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে গভীর ও ভ্রাতৃতপ্রতীম বন্ধন এবং গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদের অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তি করে গড়ে ওঠা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দুই নেতা। “সার্বভৌমত্ব, সমতা, বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বের সব দিকের সমন্বয় এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তরের বোঝাপড়ার মধ্যে সেই সম্পর্কেরই প্রতিফলন ঘটেছে।”

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সব দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে দিল্লির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগ, পানি সম্পদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক ও মানুষে মানুষে সংযোগ বিস্তৃত করার বিষয়গুলো এসেছে তাদের আলোচনায়। পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, মহাকাশ প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি এবং সুনীল অর্থনীতির মত বিষয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে তারা।

দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেছেন জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, কোভিড-১৯ মহামারী এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে, এ অঞ্চলের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বের প্রেরণায় বৃহত্তর সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন দুই নেতা।

যৌথ প্রত্যাশা : বৈঠকে দুই নেতাই উপ-আঞ্চলিক রেল, সড়ক ও অন্যান্য আন্তঃযোগাযোগের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়। দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক যোগাযোগের জন্য চলমান কিছু উদ্যোগকে দুই নেতা স্বাগত জানিয়েছেন শীর্ষ বৈঠকে। এসব উদ্যোগের মধ্যে টঙ্গী-আখাউড়া ডুয়েল-গেজ রেললাইন, রেলের বগি-ইঞ্জিন সরবরাহ, রেল কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং রেলওয়ের জন্য প্রযুক্তি আদান-প্রদানের মত বিষয় রয়েছে। কাউনিয়া থেকে লালমনিরহাট, মোগলঘাট ও নিউ গিতলদহ সংযোগ, হিলি ও বিরামপুর সংযোগ, বেনাপোল-যশোরের মধ্যে রেললাইন ও সিগন্যাল ব্যবস্থার উন্নয়ন, বুড়িমারি ও চেংরাবান্ধা রেল সংযোগ পুনরুদ্ধার, সিরাজগঞ্জে কনটেইনার ডিপো নির্মাণসহ নতুন করে নেওয়া প্রকল্পগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের বৃদ্ধিকে দুই প্রধানমন্ত্রী সাধুবাদ জানিয়েছেন জানিয়ে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের জন্য এশিয়ায় সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য হয়ে উঠছে ভারত।

শান্তিপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে ‘অভিন্ন অগ্রাধিকার’ হিসাবে বর্ণনা করে শূন্য রেখার ১৫০ গজের মধ্যে চলমান সব উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করার তাগিদ কর্মকর্তাদের দিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। সীমান্তে প্রাণক্ষয়ের ঘটনায় কমে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে দুই দেশ; একইসঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই দেশের সরকার। যে কোনো ধরনের সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করার বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা। এ অঞ্চল এবং অঞ্চলের বাইরে সন্ত্রাসবাদ, সহিংস মৌলবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবেলা ও দমনে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছেন তারা।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, কুশিয়ারা নদীর পানি প্রত্যাহারে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারায় স্বাগত জানিয়েছেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী। বাংলাদেশের সেচ ও দক্ষিণ আসামের খাওয়ার পানি প্রাপ্তিতে সহায়ক হবে নতুন এই পদক্ষেপ। উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতাকে জোরদার করার জন্য দুই দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে নেওয়া প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন উভয় নেতা। বিহারের কাটিহার থেকে পার্বতীপুর হয়ে আসামের বড়নগর পর্যন্ত ৭৬৫ কেভি সঞ্চালন লাইন রয়েছে এর মধ্যে। দুদেশের মধ্যে সরাসরি শিপিং লাইন প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন।

বিবিআইএন মোটর ভেহিকেল এগ্রিমেন্টের দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় ও উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়নের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (সেপা) সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন; যেখানে বলা হয়েছে, চুক্তি হলে দুদেশই উপকৃত হবে। সেপার বিষয়ে চলতি বছরই দর কষাকষি শুরু করে দ্রুত সময়ে তা শেষ করতে বাণিজ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী; আর সেটা যেন বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের আগেই হয়।

যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০১৯ সালের সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যানবাহন কেনার ক্ষেত্রে প্রাথমিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, টেকসই ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ায় বাংলাদেশকে ভারত সাধুবাদ জানিয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, টেকসই ও দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতিও ভারত বৈঠকে তুলে ধরেছে।

বাংলাদেশের চাওয়া, প্রাপ্তি : ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে ফ্রি ট্রানজিট দেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারত। তবে এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থল, বিমান ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে হবে। তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য অবকাঠামো ব্যবহার করতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

নেপাল ও ভুটানে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত আগে থেকেই বাংলাদেশকে ফ্রি ট্রানজিট সুবিধা দিয়ে আসছে। নতুন করে চালু হওয়া চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রুটের মাধ্যমে ভুটানের সাথে রেল যোগাযোগের কথা বৈঠকে বলেছে বাংলাদেশ। কার্যকারিতা ও সম্ভাব্যতার ভিত্তিতে এই অনুরোধ বিবেচনার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে ভারত। ভুটানের সাথে বাংলাদেশের রেলযোগাযোগ এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত রেল সংযোগকে আরও কার্যকর করার জন্য চিলাহাটি-হলদিবাড়ি ক্রসিংসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বন্দরের বিভিন্ন বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের কথা বলেছে ভারত।

ভারত, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের মধ্যে চলমান ত্রিপক্ষীয় মহাসড়ক প্রকল্পে অংশীদার হওয়ার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। জ্বালানি পণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আলোচনার সুযোগ তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে ভারত। ভারত সরকার উপহার হিসাবে ২০টি ডিজেলচালিত রেল ইঞ্জিন দিয়েছে, যাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ভারত চাল, গম, চিনি, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের রপ্তানি বন্ধ বা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেই তথ্য জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

দিল্লি এ বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারতে বিদ্যমান সরবরাহ পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানিয়েছে ভারত এবং এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

অতীতের বিভিন্ন আলোচনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য আবারও অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই ‍চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছিল ২০১১ সালে। আর ১৯৯৬ সালে হওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যাতে পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে, সেজন্য নতুন করে যৌথ কারিগরি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে চুক্তির বিষয়েও কর্মপন্থা ঠিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি), যাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দুই নেতা। ভারতের মধ্য দিয়ে নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ। বিপরীতে ভারত জানিয়েছে, এক্ষেত্রে তাদের একটি নীতিমালা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের হিলি থেকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে মেঘালয়ের মাহেন্দ্রগঞ্জ পর্যন্ত মহাসড়কসহ উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগের প্রকল্পগুলো চালুর ক্ষেত্রে ভারত সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশের। দুদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির স্বার্থে স্থলবন্দর ও স্থল কাস্টমস স্টেশনের অবকাঠামোর ‍উন্নয়ন এবং সুনির্দিষ্ট বন্দরের বিধিনিষেধ ও নন-ট্যারিফ বাধা দূর করার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের একটি স্থলবন্দরকে বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত রাখা বা ‘নেতিবাচক বাধ্যবাধকতার’ বাইরে রাখার কথা বলেছে ভারত। আখাউড়া-আগরতলা দিয়ে এই পদক্ষেপ শুরু হতে পারে বলে বৈঠকে তারা আলোচনা তুলেছে।

Print Friendly, PDF & Email