বাংলাদেশের গণমাধ্যম বন্দী, মুক্ত নয় : ডা. জাফরুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক |

গণস্বাস্থের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, গণমাধ্যম কর্মীরা অনাহারে অর্ধাহারে দিন যাপন করছে। এর জন্য আমরা যুদ্ধ করিনি। মানুষের কথা বলার স্বাধীনতার হারাবে এ জন্যে দেশ স্বাধীন করিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম বন্দী, মুক্ত নয়। সাংবাদিকদের নেতা রুহুল আমিন গাজীসহ সকল বন্দি সাংবাদিক নেতাদের মুক্তি দাবি করেন তিনি।
আজ ৩ মে সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ সিভিল রাইটস সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ও বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম আজ স্বাধীনতার ৫০ বছরেও স্বাধীন হয়নি। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম গণমানুষের স্বপ্নপূরণের জন্য। কিন্তু তার সুফল আজও পাইনি। দেশের গণমাধ্যম মুক্ত ও স্বাধীন না হয়ে দেশটা গণমাধ্যম মুক্ত হয়ে গেছে । আমরা চাই গণমাধ্যমে মুক্ত চিন্তা চেতনার বিকাশ ঘটাবে।


সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহবায়ক শওকত মাহমুদ বলেন, বিশ্বসূচকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ২০১৪ সালে ১২২তম। আর বর্তমানে তাদের জরিপে ১৫২ তম অবস্থানে পৌছেছে বাংলাদেশ। যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন।
দেশের জিডিপি বাড়লেও বাংলাদেশের সাংবাদিকরা গরীব হচ্ছে। অর্থনৈতিক মানের দিকে ভিক্ষুকের চেয়েও নিম্নে অবস্থান করছেন সাংবাদিকরা।বাংলাদেশের মিডিয়ায় কর্পোরেট কোম্পানী ও সরকার ৯৯% নিয়ন্ত্রণ করছেন।

তিনি আরো বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সমালোচনা করে সংবাদ প্রকাশ করলে ১৪ বছরের জেল। কিন্তু পাকিস্তানের সমালোচনা করলে পুরস্কৃত হওয়া যায়, অথচ বিশ্ব মিডিয়া সূচকে মুক্ত গণমাধ্যম হিসেবে পাকিস্তান আফগানিস্তান এমনকি মায়ানমারের চেয়েও নিম্নে অবস্থান করছে বাংলাদেশের গণমাধ্যম।

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে’র সভাপতি এম. আবদুল্লাহ। তিনি গত কয়েক বছরে সাংবাদিক হত্যা নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ১২ বছরে দেশে ৪২ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। সাগর রুনীসহ এসব সাংবাদিক হত্যার বিচার হচ্ছে না। গত বছর ১৬৯ জন সাংবাদিক নিগৃহীত হয়েছেন। হাজারো সাংবাদিক বেকারত্বের গ্লানি নিয়ে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। অচথ সরকারি অর্থ সাংবাদিকদের জন্যে বরাদ্দ করে তা দলীয় লোকজনের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। প্রকৃত সমস্যাগ্রস্ত সাংবাদিকরা পাচ্ছে না।

আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে’র মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি মোরসালিন নোমানী, ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি শারমিন রিনভী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এ কেএম মহসিন ও নুরুদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক মাজেদুর রহমান বিশ্বাস, মাহমুদ হাসান, এরফানুল হক নাহিদ, আসাদুজ্জামান আসাদ, শাখাওয়াত ইবনে মইন চৌধুরী প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ
বাংলাদেশ সিভিল রাইটস সোসাইটির সভাপতি মো. জাকির হোসেন।

Print Friendly, PDF & Email