ফ্যাসিস্টবিরোধী জাতীয় ঐক্যকে শক্তিতে পরিণত করতে হবে – সালাহউদ্দিন
রাবি শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলাঃ দু’বছরেও শুরুই হয়নি তদন্তের কাজ
রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত ফি প্রত্যাহার ও সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার দুই বছর পূর্তি হলো মঙ্গলবার।
ওই দিনের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানালেন, ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারির ওই ঘটনায় আজ অবধি তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোও প্রত্যাহার করা হয়নি।
গত বছর থেকে ‘শিক্ষা বাণিজ্য প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে ২ ফেব্রুয়ারি পালন করে আসছে ‘বর্ধিত ফি ও বাণিজ্যিক সান্ধ্যকালীন কোর্সবিরোধী শিক্ষক-শিক্ষার্থী মঞ্চ’। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দিবসটি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
দিবসটি উপলক্ষে বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে গ্রন্থাগারের সামনে এসে একটি ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সান্ধ্যকালীন কোর্সবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আয়াতুল্লাহ খোমেনী বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সকল প্রকার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। সব ধরনের সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিল ও বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত বর্ধিত ফি প্রত্যাহার করতে হবে।’
আন্দোলনকারীরা জানান, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার কয়েক দিন পরেই গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি। দ্রুত সেই কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও দুই বছরে তা করা সম্ভব হয়নি। তাদের অভিযোগ, ‘উল্টো তদন্তকাজের বিষয়টি ভুলে গেছেন কমিটির সদস্যরা।’
এ বিষয়ে জানতে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. খালেকুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে কমিটির অন্যান্য সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক শামসুল আলম সরকার ও সিন্ডিকেট সদস্য এ্যাডভোকেট মো. ইব্রাহিম হোসেনের কাছে তদন্ত কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারাও কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এন্তাজুল হক বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়েছে কি না— তা এ মুহূর্তে বলতে পারব না। অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে বলতে পারব।’
শিক্ষার্থীরা জানান, ২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও সহিংসতা ঘটনার এক দিন পর নগরীর মতিহার থানায় পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগ দুটি করে মোট চারটি মামলা দায়ের করে। এসব মামলায় আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীসহ ১৯০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৬০০ জনকে আসামি করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব মামলা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো তা করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘মামলাগুলো তুলে নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনকে বলা হয়েছিল। এখনো কেন মামলাগুলো তোলা হয়নি, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার বর্ধিত ফি প্রত্যাহার ও বিভিন্ন বিভাগে চালু করা সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও পুলিশ। এতে সাংবাদিকসহ প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।
ওই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ কিছু শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোয়ার্টার জুবেরী ভবন ও বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও হলে ভাঙচুর চালায়। ওই দিন সন্ধ্যায় সিন্ডিকেটের জরুরি বৈঠকে ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

