শিরোনাম :

  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বহুমাত্রিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশী অভিবাসীরা

ডা: ওয়াজেদ এ খান: বহুমাত্রিক সংকটের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আমেরিকার বাংলাদেশী ইমিগ্রান্ট সমাজ। এ সংকট ইমিগ্রান্টদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করা হয় দশ লক্ষাধিক বাংলাদেশীর বসবাস এখন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে। বিপুল সংখ্যক এ অভিবাসীর বড় একটি অংশই জর্জরিত নানাবিধ সমস্যায়। যুক্তরাষ্ট্রস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস, কনস্যুলেট বা আমেরিকান কর্তৃপক্ষের নিকট কোথাও বাংলাদেশী অভিবাসীদের অন্তহীন এ সমস্যার কোন তথ্য নেই। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী অধ্যুষিত শহরগুলোতে রয়েছেশত শত সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবি, আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। কিন্তু অভিবাসীদের সমস্যা নির্ণয় এবং তা সমাধানে সহযোগিতা প্রদানের কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই কোথাও। কালে-ভদ্রে কোন ব্যক্তি বা সংগঠন কারো বিপদে এগিয়ে এলেও মোটা দাগে কমিউনিটির জন্য দৃশ্যমান নেই কল্যাণমুখী কোন কার্যক্রম। থাকবেই বা কিভাবে প্রায় প্রতিটি সংগঠনই নেৃতত্বের কোন্দল, আর্থিক অনিয়ম ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বিধা-ত্রিধা বিভক্ত। অনেক সামাজিক সংগঠন মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে ফতুর প্রায়। আবার অনেক সংগঠন নির্বাচন, অভিষেক, পথমেলা, নৌবিহার, বনভোজন, ইফতার, সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও ফোবানা সম্মেলনের আয়োজন করে লিপ্ত হচ্ছে অশুভ প্রতিযোগিতায়। ব্যয় করছে লক্ষ লক্ষ ডলার। গত রমজানে ইফতারকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে জন্ম নিয়েছে অনেকগুলো নূতন সংগঠন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও কমিটি দ্বন্দ্বের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে হচ্ছে ব্যর্থ। ঘুরছে আদাল আঙ্গিনায় বাংলাদেশী অভিবাসী সমাজে মনোবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, আইনবিদ, শিক্ষক, আলেমসহ সব শ্রেনী পেশার মানুষ থাকলেও পারস্পরিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করার মতো ব্যক্তি বা সংগঠনের অভাব বরাবরই বিদ্যমান। ফলে কমিউনিটিতে বাড়ছে পারস্পরিক দূরত্ব, হতাশা ও মানসিক রোগীর সংখ্যা। কমিউনিটি কাউন্সিলিং বা পরামর্শের অভাবে বাড়ছে আতœহনন সহ নানাবিধ অপরাধ প্রবণতা। অতি সম্প্রতি নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা তারই সাক্ষ্য গ্রহণ বহন করে। বিশেষ করে গত সপ্তাহে এফবিআই’র হাতে জ্যাকসন হাইটসে বসবাসকারী বাংলাদেশী তরুণ আশিকুলের গ্রেফতার, ওজোন পার্কে প্রিমিয়াম সুপারমার্কেটে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামুনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের, জ্যামাইকায় লুৎফর রহমান মানিকের আত্মহত্যা এবং একজন পেশাজীবীর মৃত্যুর তিনদিন পর হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার। এ সবগুলো ঘটনা বা দুর্ঘটনা বাংলাদেশী অভিবাসী সমাজের মৌলিক অবক্ষয় বা দৈন্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ঘটনা-দুর্ঘটনা নিয়েই মানুষের জীবন। আবার এসব মানুষ নিয়েই সমাজ। তারপরও সমাজ যখন শক্ত ভিত্তির উপর দন্ডায়মান থাকে তখন অনেক অঘটন বা অনভিপ্রেত বিষয় এড়ানো সম্ভব হয়। এজন্য সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ দানের ব্যবস্থা সমাজে থাকা অত্যাবশ্যক। টাইমস স্কয়ারে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর কাল্পনিক অভিযোগে আশিকুলকে গ্রেফতার করে আদালতে সোর্পদ করেছে গোয়েন্দারা। তরুণ আশিকুল তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে। এর আগে নাফিস নামে আরো একজন বাংলাদেশী তরুণকে একই ধরণের ফাঁদে ফেলে ৩০ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। সে এখন জেল খাটছে। এ ঘটনায় নাফিসের জীবন এবং বাংলাদেশে তার পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। বলাবাহুল্য, আশিকের পরিণতিও সেদিকে গড়াচ্ছে। আশিকের গ্রেফতারের ঘটনায় বাংলাদেশী কমিউনিটিতে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ আদালতের রায়ের পূর্বেই তাকে দোষী সাব্যস্থ করে ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করছেন। আবার অনেকে দাবি করছেন সত্য ঘটনা উদঘাটন করার। এতে অপরাধী হলে অবশ্যই তার শাস্তি দাবি করছেন তারা। তবে আশিক পাতা ফাঁদের শিকার কিনা তা জানার অধিকার তার পরিবারের রয়েছে। আশিক দেশে বা যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলো কিনা এসব খতিয়ে দেখতে হবে। এক্ষেত্রে কমিউনিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নাফিসের ঘটনার পর কমিউনিটিতে কোন ধরণের সচেতনতা সৃষ্টি হয়নি। ফলে বাংলাদেশ থেকে আগত তরুণরাই বার বার এই পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছে। পরিবার তথা বাবা-মা সচেতন না থাকার কারণে অনেক সময় জানতে পারেন না তাদের সন্তান কখন কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মেলামেশা করছে। কমিউনিটিতেও নেই কোন পরামর্শের ব্যবস্থা। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। নাফিস-আশিকদের ঘটনাকে পুঁজি করে বাংলাদেশী অভিবাসী কিংবা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার মধ্যে কোন আনন্দ বা তুষ্টি নেই। নাফিস, আকায়েদ এবং আশিকুলদের মতো নবাগত তরুণ অভিবাসীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে না পারার দায় বাংলাদেশী দায়িত্বশীল সংগঠন, বাংলাদেশ দূতাবাস এবং স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম কিছুতেই এড়াতে পারে না। বার বার বাংলাদেশী তরুণরা যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার ও কারাগারে নিক্ষিপ্ত হলেও যুক্তরাষ্ট্রস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বরাবর পালন করে যাচ্ছে নীরব দর্শকের ভূমিকা। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রীনকার্ডধারী আশিককে মার্কিন নাগরিক বলে তার ভাগ্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের উপর শপে দিয়ে দায়ভার এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। গ্রীনকার্ডধারী ও মার্কিন নাগরিকের মধ্যকার ব্যবধান সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্যক ধারণা নেই-এটা দুঃখজনক। অপরাধ প্রবণতা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। সব সমাজেই কমবেশী অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে। ভার্জিনিয়া বীচে গত সপ্তাহেও বন্দুকধারীর গুলিতে ১২ জন নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিনই গুলিতে প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। অভিবাসী বাংলাদেশী সমাজ এর বাইরে নয়। তবে অপরাধের মাত্রা যখন ছাড়িয়ে যায় তখন স্বভাবতই তা সবার নজর কাড়ে। বাড়ি ক্রয়-বিক্রয়, বিভিন্ন ব্যবসায় ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনা কমিউনিটিতে নূতন কিছু নয়। ব্যবসায় ক্ষেত্রেও কমিউনিটিতে চলছে অশুভ প্রতিযোগিতা। কেউ কোথাও একটি ব্যবসায় শুরু করলে তাকে টেক্কা দিতে একই স্থানে একই ধরণের ব্যবসায় চালুর হিড়িক পড়ছে। সংবাদপত্র প্রকাশনা শিল্পেও এর কালো ছায়া পড়েছে। তবে কারো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অগ্নি সংযোগ করার মতো প্রতিহিংসা পরায়নতা নিঃসন্দেহে অভিনব অপরাধ। অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশীরা ছায়ার সাথে লড়ছেন। নিজেরাই দাঁড়াচ্ছেন নিজেদের ক্ষতির কারণ হয়ে। আদালতের চূড়ান্ত রায়ে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত এবং মামুনার শাস্তি হলে তা নিঃসন্দেহে কমিউনিটির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করবে। ব্যক্তিগত মানসিক অসুস্থতা ও পারিবারিক অশান্তির কারণে কমিউনিটিতে নীরবে-নিভৃতে ঘটছে আত্মহননের ঘটনা। বিপথগামী তরুণ প্রজন্মের মাঝে এধরণের প্রবণতা উদ্বেগজনক। বিগত কয়েক বছরে বেশ অনেকগুলো তরুণ প্রাণ ঝড়ে গেছে আত্মহননের কারণে। সন্তানহারা এসব পরিবার এখন বিপর্যস্থ। নেতিবাচক এসব সংবাদ কেউ প্রকাশ করতে চান না। গত সপ্তাহে জ্যামাইকায় মানিকের আত্মহত্যার কারণ অজ্ঞাত। এসবের কারণ উদঘাটন বা পূর্বাহ্নেই প্রতিকারের প্রস্তুতি গ্রহণের মতো কোন সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান কমিউনিটিতে নেই। শীর্ষ স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলো বিশেষ সেল গঠন করতে পারে কমিউনিটির মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সমাজ বিজ্ঞানী ও অভিজ্ঞ আলেমদের সমন্বয়ে। যারা প্রয়োজনে ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং ক্ষেত্র বিশেষে সমষ্টিগতভাবে পরামর্শ দিতে পারেন সমস্যাক্রান্তদেরকে। অমূলক কাজে লক্ষ লক্ষ ডলার অপচয় না করে জনহিতকর এসব কাজে এগিয়ে আসলে সমাজ উপকৃত হবে। বেঁচে যাবে অনেক প্রাণ। কাউকে না কাউকে বা কোন না কোন সংগঠনকে এ ধরণের স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে। পেশাজীবি সংগঠনগুলো পারে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে। দেশ থেকে হাজার হাজার ডলার ব্যয় করে শিল্পী আমদানী এবং ফাইভ স্টার হোটেলে নাচ-গান ও ভুড়িভোজের আয়োজন করে নতুন প্রজন্মকে কোনভাবেই স্বদেশী সংস্কৃতির সম্পৃক্ত করা যাবে না। অথচ ইদানিং এসব অনুষ্ঠানে নূতন প্রজন্মের দোহাই দেয়া একধরণের রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। সময়ের ব্যবধানে অভিবাসী সমাজের চলমান জীবন যাত্রা থেকে নূতন প্রজন্ম যে অনেক দূরে সরে গেছে তা কেউ বিবেচনায় আনতে চান না। বাংলাদেশী কমিউনিটির সভা-সমিতি অনুষ্ঠানাদি নূতন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে পারছে না। বিশেষ করে যাদের জন্ম এদেশে বা যারা অতি অল্প বয়সে আমেরিকায় বেড়ে উঠেছে। তারা আমেরিকার সমাজ ও জীবন ধারায় মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে অভিভাবক ও পরিবারের সন্তানদের মাঝে ব্যবধান ক্রমশ:ই স্পষ্ট হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক পরিবারের সন্তান বখে যাচ্ছে। আবার উল্টোটাও হচ্ছে। অনেক সন্তান পরিবারে থেকেই পড়াশুনায় ভালো ফলাফল করে বাবা-মা ও কমিউনিটির মুখ উজ্জ্বল করছে। কমিউনিটিতে কল্যাণধর্মী সংগঠন, যোগ্য ত্যাগী ও নেতৃত্ব গড়ে না উঠার কারণে নূতন প্রজন্মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যোগসূত্র সৃষ্টি হচ্ছে না। কমিউনিটিতে নূতন প্রজন্মের মধ্যেও দু’টি ধারা বিদ্যমান। প্রথমটি হলো যারা এদেশে জন্ম থেকে বেড়ে উঠেছে। অপর ধারা হলো যে সকল ছেলে-মেয়ে বাংলাদেশে হাইস্কুল-কলেজে পড়াশুনা করে সাম্প্রতিককালে অভিবাসন গ্রহণ করেছে। কমিউনিটির আনন্দানুষ্ঠান ও রাস্তার আড্ডায় এই শ্রেনীর দেখা মিললেও অপর শ্রেনীর অনুপস্থিতি বরাবরই লক্ষ্যণীয়। নানা কারণেই অনেক অভিভাবক সন্তানের চাল-চলন এবং তারা কখন কোথায় যায় কার সাথে মিশে এসব পর্যবেক্ষণ করতে পারেন না। অজ্ঞতা, দাম্পত্য কলহ, গার্হস্থ্য সংঘাত, আর্থিক দৈন্য এবং সংসার ভাঙ্গার কারণেও সন্তানের দেখাশুনা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন অনেক বাবা-মা। বিবাহযোগ্য সন্তানের বিয়ে নিয়ে বড় ধরণের বিপাকে রয়েছেন অনেক অভিভাবকগণ। এসব পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা এবং এসবের সমাধান নিয়ে কমিউনিটিতে সচেতনতা সৃষ্টি জরুরী। তা না হলে যুক্তরাষ্ট্রের কসমোপলিটান সমাজ ও সংস্কৃতিতে বিলিন হয়ে যাওয়া অন্যান্য জাতিগোষ্ঠির মতো বাংলাদেশীদের অবস্থা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। অনেক পরিবারে সন্তানের সাথে বাবা-মার সাথে শুধু ব্যবধান নয় তিক্ততা এতোটাই প্রবল যে সম্প্রতি এক পিতার মৃত্যুর তিনদিন পর হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে দাফন কাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অথচ এদেশে বসবাসরত সন্তানদের দেখা মেলেনি। কমিউনিটির জন্য এধরণের বার্তা শুভ ইঙ্গিত বহন করে না। ইমিগ্রেশন, শিক্ষা, চাকুরী, চিকিৎসা ক্ষেত্রেও নানাবিধ সমস্যায় ভুগছেন অনেকে। পরিবারের বয়স্কদের নিয়ে রয়েছে এক ধরণের সমস্যা। আত্মপরিচয় সংকটও রয়েছে অনেকের। আসলে অভিবাসন একটি মর্মদায়ক প্রক্রিয়া। উন্নত জীবন ও জীবিকার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশীদের আমেরিকা আগমন। বাংলাদেশীদের স্বাতন্ত্রবোধ, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধ চিরায়ত ও বিশ্বজনীন। অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সংকট থাকবে, চ্যালেঞ্জ থাকবে, সম্ভাবনা থাকবে। এসব মোকাবিলা করে পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে প্রয়োজন সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস। আর এজন্য কমিউনিটির সব শ্রেনী পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবার ও সমাজে আনন্দানুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তবে তা যেন বিলাসিতায় পর্যবসিত না হয়। সংগঠন ও নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে যেন সমাজে সৃষ্টি না হয় বিভেদ, বিভ্রান্তি ও বিদ্বেষের।

(নিউইয়র্কের পাঠকপ্রিয় সংবাদপত্র ‘সাপ্তাহিক বাংলাদেশ’ এ প্রকাশিত। লেখক পত্রিকাটির সম্পাদক)