• শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৯

সূচির মর্মান্তিক মৃত্যু: সাংবাদিক পিতার অসাবধানতাও দায়ি

FB_IMG_1549357996512ঘাতক মাইক্রোবাসের চাপায়  সাংবাদিককন্যা সূচির মর্মান্তিক  মৃত্যুর জন্য তার বাবার অসাবধানতাও কিছুটা দায়ি। মেয়েটিকে পেছনে ফেলে তিনি রাস্তা পার হয়েছেন।বাবাকে আশ্বস্ত করে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেছিল মাইলস্টোন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাইজিয়া তাহমিনা সূচি (১০)। কিন্তু তার আগেই বাবার আশঙ্কা সত্যি হলো। ঘাতক মাইক্রোবাস বাবার সামনেই মেয়েকে পিষ্ট করে দ্রুত চলে যায়। ঘটনাস্থলেই নিহত হয় একমাত্র মেয়ে। মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ৯টায় রাজধানীর উত্তরার (দিয়াবাড়ি) ১৮ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর ব্রিজে ওঠার ঢালে একটি মাইক্রোবাসের ধাক্কার নিহত হয় সূচি।

রাস্তা পার হওয়ার সময় বাবা ফাইজুল মেয়েকে সাবধানে পার হতে বলেছিলেন। বাবা মেয়েকে হাত ধরতে বলেছিলেন। কিন্তু বাবাকে আশ্বস্ত করে মেয়ে বলেছিল, ‘বাবা সমস্যা নেই আমি পার হতো পারবো।’ এরপর রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাস তাকে চাপা দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার সময় সূচি মারা যায়।
নিহত সূচি’র বাবা দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক ফাইজুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে মেয়ের জন্য অনেক যত্ন করে নাস্তা তৈরি করে দেয় তার মা। প্রতিদিনের মতো মেয়েকে নিয়ে বাসা থেকে বের হই। সড়ক পার হওয়ার জন্য মেয়েকে আমার হাত ধরতে বলি। কিন্তু সূচি বলে সমস্যা নেই বাবা, আমি পার হতে পারবো। আমাদের সঙ্গে সূচির আরও এক সহপাঠী এবং তার বাবাও ছিলেন। আমি মেয়ের সামনেই রাস্তা পার হই। এ সময় একটি মাইক্রোবাস দ্রুতগতিতে এসে মেয়েকে ধাক্কা দেয়। সূচি পড়ে গেলে গাড়িটি তাকে পিষ্ট সূচি মিরপুরের মনিপুরী স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা উত্তরায় রাজউকের একটি ফ্ল্যাট পাওয়ায় গত সপ্তাহে তারা উত্তরার বাসায় ওঠে। বাসার অল্প দূরে মাইলস্টোন স্কুলে ভর্তি করা হয় তাকে। রাজউক উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টের সুরমা ভবনের ২০৫ নম্বর ফ্ল্যাটে বসবাস করে সূচির পরিবার।

মঙ্গলবার বিকালে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা যায়, মেয়েকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা ফাইজুল ইসলাম ও মা নার্গিস ইসলাম নিশি। ফাইজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিজের ফ্ল্যাটে উঠবো বলে সন্তানদের মাইলস্টোন স্কুলের দিয়াবাড়ি শাখায় এ বছরের জানুয়ারিতে ভর্তি করেছি। সাতদিন হলো মেয়ে স্কুলে যাচ্ছিলো। এর মধ্যেই এই সড়কে প্রাণ হারালো আমার মেয়ে। সড়কে আমাদের কারও জীবনের নিশ্চয়তা নেই। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলাচলের জন্য আজ আমার মেয়ে লাশ হয়ে গেলে। ওর তো কোনও দোষ ছিল না।’

বা ও ভাইয়ের সঙ্গে ফাইজিয়া তাহমিনা সূচি (ছবি: শেখ জাহাঙ্গীর আলম)চোখের সামনে একমাত্র মেয়ের মৃত্যু দেখে শোকে হতবিহ্বল ফাইজুল ইসলাম। মেয়ের বই, জামা-কাপড় নিয়ে বিলাপ করছেন সুচির মা নারগিস ইসলাম। তিনি বারবার সঙ্গাহীন হয়ে পড়ছেন। স্বজনরা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বিলাপ করে বলেন, ‘গতকাল স্কুলে আমার মেয়ে একটি পরীক্ষা দিয়েছে। পড়াশোনায় অনেক ভালো ছিল। ওর ছোট ভাইকে সবসময় আদর করতো। সকালে ওর ব্যাগে বই খাতা গুছিয়ে দিয়েছি। কিন্তু মেয়ে আমার স্কুলে আর যেতে পারলো না।’ সূচির ছোট ভাই নাকিব মুনসিব বর্নও বাকরুদ্ধ হয়ে তার মায়ের কাছে বসে ছিল। সবার দিকে তাকিয়ে দেখছে, কিন্তু কোনও কথা বলছিল না।

এদিকে দুর্ঘটনার পর তুরাগ থানা পুলিশ মাইক্রোবাসটি আটক করেছে। এই ঘটনায় তুরাগ থানায় একটি মামলা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল মুক্তাকিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাইক্রোবাসটির চালককে আটকের চেষ্টা করছি। গাড়ির মালিকের খোঁজও নেওয়া হচ্ছে।’