এভাবে দেশ শ্রীলংকা হোক, দেউলিয়া হয়ে যাক কোন দেশপ্রেমিক চায় না

আবদুল হাফিজ খসরু

বর্তমান বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রতি লিটার দাম পড়ে বাংলাদেশী টাকায় ৬২ টাকা। পরিশোধন, পরিবহন, ট্যাক্স-ভ্যাট ও কমিশন সহ সর্বমোট মূল্য কোনভাবেই ৭০ টাকার বেশি হবে না। অথচ সরকার গত শনিবার সে তেলের দাম নির্ধারণ (ডিজেল-কেরোসিন) করেছে ১১৪ টাকা। এখানে প্রতি লিটারে লাভ হচ্ছে ৪৪ টাকা।

দেশে ডিজেলের দৈনিক চাহিদা প্রায় দেড় কোটি লিটার। তাহলে শুধুমাত্র ডিজেল থেকে সরকার দৈনিক লাভ করবে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। মাসে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য সকল জ্বালানী তেলের হিসাব করলে দেখা যাবে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা জনগণের পকেট থেকে নিয়ে নিচ্ছে। এর আগের সাত বছরে এই খাত থেকে সরকার লাভ করেছে ৪৪ হাজার কোটি টাকা। আর লস দিয়েছে মাত্র ৮ হাজার কোটি টাকা। লাভের বাকী টাকা গেল কোথায় ?

সেবক না হয়ে জনগণের সাথে এভাবেই ব্যবসায় করে যাচ্ছে সরকার। সাথে পকেট ভারি করছে পরিবহন মালিকেরাও। যেখানে তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় বাড়ার কথা ২০-২৫ পয়সা সেখানে তারা বাড়িয়েছে ৪০ পয়সা।

সরকার ও পরিবহন মালিকদের এই ব্যবসায়িক মনোবৃত্তির কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হবে কৃষিখাত। ক্ষতিগ্রস্থ হবে শিল্পপ্রতিষ্ঠান। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য আরেক দফা আকাশচুম্বী বাড়বে। শুধুমাত্র কৃষি খাতের ক্ষতির হিসাব দিলে বুঝা যাবে সরকারের জ্বালানী তেলের অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধির এই অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত দেশের কি পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে।

প্রতি বিঘা জমিতে সেচ দিতে ডিজেল খরচ হয় ২০ লিটার। এখন থেকে বিঘাপ্রতি সেচ খরচ বাড়বে ৬৮০ টাকা। সরকার ইতিমধ্যে ইউরিয়া সারের দাম বাড়িয়েছে কেজি প্রতি ৬ টাকা করে। এক বিঘা জমিতে সার লাগে ৩৫ কেজি। তাহলে সারে অতিরিক্তি লাগবে ২১০ টাকা। সার ও সেচ বাবদ বিঘাপ্রতি ধান উৎপাদনে কৃষকের অতিরিক্ত খরচ যোগ হবে ৮৯০ টাকা। এক বিঘায় ধান উৎপাদিত হয় প্রায় ২২ মন। তাহলে প্রতি মন ধানের অতিরিক্ত উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে ৪০ টাকা। বর্ধিত পরিবহন খরচ যোগ করলে ভোক্তা পর্যায়ে এই ধান থেকে উৎপাদিত চালের দাম কেজি প্রতি ১০-৩০ টাকা বাড়বে।

এভাবে সকল ফসলের আকাশচুম্বি দাম বাড়বে। যেসব পণ্য ও সেবার সাথে জ্বালানী তেলের সরাসরি সম্পর্ক নেই সেগুলোরও দাম বাড়বে। আর এই দেশে কোন জিনিসের একবার দাম বাড়লে তা কমতে দেখা যায় না। জনগণের ক্রয় ক্ষমতা নষ্ট হবে। সরকারি কর্মচারিদের বেতন বাড়াতে বাধ্য হবে সরকার। মুদ্রাস্ফীতি আরো বাড়বে। এভাবে দেশ শ্রীলংকা হোক, দেউলিয়া হোক কোন দেশপ্রেমিক চায় না। সরকার তার ব্যর্থতা স্বীকার করতে চাইবে না। ক্ষমতাও ছাড়বে না। অন্যদিকে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছে। তবে তা কাজে লাগানোর সক্ষমতা বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে এই মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে না।

তবে দেশের কল্যাণে একটা কার্যকর ও টেকসই পরিবর্তন দরকার। জনতার সরকার দরকার। এই সময়ে ইসলামপন্থী দলগুলো একটা কার্যকরি উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের রূপরেখা প্রণয়নের সময় তাদের এসেছে। এখন জনগণের হৃদস্পন্দন বুঝতে পারলে চালকের আসনে তারাই বসতে পারবে।

Print Friendly, PDF & Email