• শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৯

যেকোনও সময় তিনি গ্রেফতার হতে পারেন ওসি মোয়াজ্জেম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেফতারে দেরি হচ্ছে। যেকোনও সময় তিনি গ্রেফতার হতে পারেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে জাতীয় জাদুঘরে ‘তারুণ্য কথা’ নামের একটি সংগঠনের চিত্রকর্ম অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারে পুলিশের কোনও গাফিলতি আছে কিনা সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না, এখানে পুলিশের কোনও গাফিলতি নেই। তিনি আত্মগোপনে থাকায় গ্রেফতারে বিলম্ব হচ্ছে। তবে যেকোনও সময় তিনি গ্রেফতার হতে পারেন।’
ফেনীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এক মামলায় অভিযুক্ত সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে গত ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার দিন দশেক আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান নুসরাত। থানার সেই সময়ের ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে আদালতের নির্দেশে তা তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওই দিনই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরোয়ানা জারির দুই দিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।

এ সময় মালিবাগ ও গুলিস্তানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার তদন্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এই ঘটনার তদন্ত আমরা গুছিয়ে এনেছি, শিগগিরই এ ব্যাপারে সবাইকে জানানো হবে।’
প্রসঙ্গত, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে তাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কোরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। গত ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।