টঙ্গীতে ইসলামী সাহিত্য ও সাংবাদিকতা পুরস্কার প্রবর্তনে মতবিনিময় সভা

টঙ্গীতে দেশবরেণ্য আলেমদের উপস্থিতিতে শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল হুদা স্মরণে ইসলামী সাহিত্য ও সাংবাদিকতা পুরস্কার প্রবর্তনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়

সৎ-সাহসী সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনই স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ- আাল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী

আবদুল হাফিজ খসরু ঃ হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর আহবায়ক এবং জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, পিন্ডি থেকে আজাদ হয়েছি দিল্লির গোলামির জন্য নয়। আমরা কোন অবস্থাতেই দিল্লির কাছে মাথা নত করবো না, দিল্লির গোলামী মেনে নেব না। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে যে কোন জাতিকে পদানত করা যায়। আমাদের বিরুদ্ধে সেই আগ্রাসন চলছে । এব্যাপারে আলেম, সাংবাদিক, লেখক ও আমাদের সংস্কৃতিকর্মীদেরকে সচেতন ও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, সত-সাহসী সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনই স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ।

বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল হুদা স্মরণে ইসলামী সাহিত্য ও সাংবাদিকতা পুরস্কার প্রবর্তনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টঙ্গীতে দেশের খ্যাতনামা ওলামায়ে কেরাম ও লেখক সাংবাদিকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নূরাইন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও দোয়া মাহফিলে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) মহাসচিব এম. আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়েজ উল্লাহ, হেফাজতে ইসলাম গাজীপুরের আমীর মুফতি মাসউদুল করীম, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব ও ইসলাম টাইমস২৪ ডটকমের সম্পাদক মাওলানা শরীফ মুহাম্মাদ, বিশিষ্ট লেখক মাওলানা আবু তৈয়ব, আলোকিত বাংলাদেশ এর সহ সম্পাদক মাওলানা আলী হাসান তাইয়েব, বিভিন্ন মসজিদের খতীব মাওলানা ইউনুস শাহেদী, মাওলানা ইকবাল মাসুম, মাওলানা আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

টঙ্গীর আল-হেলাল একাডেমী প্রাঙ্গনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, ইসলামের আদর্শ সমাজে বাস্তবায়নের জন্য মাওলানা নূরুল হুদা (র.) তাঁর সারাটি জীবন কাজ করে গেছেন। তাঁর স্মরণে ‘ইসলামী সাহিত্য ও সাংবাদিকতা পুরস্কার প্রবর্তন’ দ্বীনের প্রসার ও ইসলামী সমাজ বিনির্মানে আরেকটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, উম্মাহ ডটকম এর সম্পাদক মাওলানা মুনির আহমেদ, লেখক কলামিস্ট মাওলানা সৈয়দ শামসুল হুদা, মুফতি জহির ইবনে মুসলিম, মাওলানা আবু বকর সিরাজী, মাওলানা গোলামুল কুদ্দুছ, মাওলানা ওসমান গনি প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী আরও বলেন, সত্যিকারের সৎ ও গুণি মানুষরা মরেও অমর হয়ে থাকেন। তাঁদের মৃত্যুর পরও যেমন মানুষ তাঁদের অমর কীর্তি গুণে উপকৃত হতে থাকেন, তেমনি তাঁদের সৎ কর্ম ও গুণাবলীর আলোচনা করে, তাঁদেরকে স্মরণ করে, উত্তরসুরিরা উত্তম কর্মে অনুপ্রাণিত হয়ে থাকেন। এরকম সৎ ও গুণী মানুষরা মৃত্যুর পরও কবরে সাদক্বায়ে জারিয়ার সাওয়াব লাগাতার পেতে থাকেন। ঠিক এরকমই একজন গুণী মানুষ ছিলেন- প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল হুদা (রাহ.)।

তিনি বলেন, মাওলানা নূরুল হুদা একদিকে যেমন ইলমে ওহীর জ্ঞানের ভাণ্ডারে ভরপুর আলোকজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব ছিলেন, অন্যদিকে জাগতিক শিক্ষায়ও তিনি ছিলেন সুশিক্ষিত, জ্ঞানী ও অভিজ্ঞতায় ভরপুর একজন আদর্শবান নাগরিক। ছাত্র জীবন শেষ করার পর দীর্ঘ শিক্ষকতার পেশায় তিনি অগণিত ইলমপীপাসুকে যেমন নববী ইলমের খোরাক জুগিয়ে হাজার হাজার আলেম গড়ে তুলতে কাজ করে গেছেন, তেমনি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রে ইনসাফ, আদর্শ, সুবিচার এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন চেষ্টা সাধনা করে গেছেন।

তিনি তাঁর সন্তানদেরকেও সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সৎ ও সঠিক নীতি-আদর্শে আদর্শবান করে গেছেন। যার ফলে তাঁর সন্তানরাও এখন নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি, পরিবার, সমাজ, দেশ ও জাতির মাঝে সৎ, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মহান লক্ষ্যে সাধ্যমতো খেদমত করে যাচ্ছেন।
আল্লামা কাসেমী বলেন, আমরা সকলেই জানি যে, আদর্শ দেশ, জাতি, সমাজ ও পরিবার গড়ার জন্য লেখক-সাংবাদিকদের ভূমিকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। লেখালেখি ও সাংবাদিকতার এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যারা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখবেন, নূরাইন ফাউন্ডেশনের তরফ থেকে প্রতি বছর তাদেরকে সম্মানিত ও উৎসাহিত করতে পুরষ্কৃত করা হবে। এতে করে যারা এসব ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন, তারা যেমন অনুপ্রাণিত হবেন, তেমনি আরো অনেকেই লেখালেখি, সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতায় উৎসাহবোধ করবেন। গুণীজনকে পুরষ্কৃত করলে আরো গুণিজন তৈরি হয়, উৎসাহিত হয়। সম্মানি মানুষকে সম্মান জানালে আরো সম্মানি মানুষ তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানে মরহুম মাওলানা নূরুল হুদা ও তাঁর সহধর্মিনী মরহুমা নূর খাতুনের রূহের মাগফিরাত কামনা এবং কাশ্মিরসহ সারা বিশে^র মুসলমানদের হেফাজত ও কল্যাণ কামনা করে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী দোয়া পরিচালনা করেন।