• শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৯

ইফা ডিজি সামীম আফজালের ভাগ্য নির্ধারণ শনিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজালকে ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে শনিবার (২২ জুন) সকালে সচিবালয়ে বসছে প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড অব গভর্নরসের সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। ওই সভা থেকে সামীম আফজালকে পদত্যাগ করতে অনুরোধ করা হতে পারে। আর তিনি পদত্যাগে রাজি না হলে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তসহ একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে। ইফা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে ইফা’র বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘ফাউন্ডেশনের নীতিনির্ধারণ করে গভর্নরস বোর্ড। এই প্রতিষ্ঠানটির কাজ হচ্ছে বোর্ড অব গভর্নরসের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা। শনিবারের বোর্ডসভায় বিদ্যমান সংকট নিরসনের জন্য আলোচনা হবে। সে মোতাবেক যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটিই কার্যকর করা হবে।’
এর আগে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজাল গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি ফাইল গোপনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। গত ১৮ জুন সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি ফাইল গোপনে নিয়ে যাচ্ছিলেন ইফার ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজাল। এই মুহূর্তে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজির পদত্যাগ করা ছাড়া কোনও পথ খোলা নেই।’

বৃহস্পতিবার (২১ জুন) পর্যন্ত টানা তৃতীয় দিন অবস্থান ধর্মঘট পালন করছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সামীম মোহাম্মদ আফজাল পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও তারা দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেন।

এ প্রসঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাহাবুব আলম বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও সচিব সাক্ষাৎ করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনসহ একটি সম্মানজনক সমাধানের জন্য ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর গোলাম মাওলা নকশেবন্দী বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড সভা আছে। সভায় সমস্যা সমাধানের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।’

জানতে চাইলে ধর্ম সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘শনিবার বোর্ড সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। একটি সমাধান এ সভা থেকে আসবে।’

ইফার ডিজির অনিয়ম বিষয়ে ধর্ম সচিব বলেন, ‘এ মুহূর্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সচল করাই মূল লক্ষ্য।’ তবে, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আছে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইফা’র গভর্নরস বোর্ডের একজন সদস্য বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সামীম আফজালও যোগাযোগ করেছেন। সবার বক্তব্য শুনেছি। ইফার ডিজির পদত্যাগের বিকল্প হিসেবে ছুটিসহ অনেক ধরনের প্রস্তাব আমাদের কাছে এসেছে। তবে, সিদ্ধান্ত হবে শনিবারের বোর্ড সভায়।’

এদিকে, শুক্রবার (২১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে আসেন ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজাল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ইফার উপসচিব জালাল আহমেদসহ অনুগত কর্মকর্তারা। সামীম মোহাম্মদ আফজাল নিজ কার্যালয়ে গিয়ে অনুগত কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। এরপর বেলা ২টার দিকে আগারগাঁওস্থ ইফা’র প্রধান কার্যালয় থেকে বাসায় ফিরে যান তিনি।

শুক্রবার ডিজি অফিসে আসা প্রসঙ্গে ইফার উপসচিব জালাল আহমেদ বলেন, ‘ট্রেনিং সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কিছু কাজ থাকায় মহাপরিচালক অফিসে এসেছেন। এছাড়া, শনিবার বোর্ড সভা রয়েছে, তার প্রস্তুতির জন্যও তিনি কাজ করেছেন।’

ইফা’র পরিচালক (মসজিদ ও মার্কেট বিভাগ) মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও সচিব কথা বলেছেন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সবাই আন্দোলন স্থগিত করেছি। কিন্তু মহাপরিচালক এখনও তৎপর রয়েছেন। আজ শুক্রবার বন্ধের দিনে তিনি অফিসে এসেছেন অনুগতদের নিয়ে। তিনি ফাইলপত্র সরানোর উদ্দেশ্যে বন্ধের দিনে অফিসে এসেছেন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে সামীম মোহাম্মদ আফজালকে টেলিফোন করলে এক ব্যক্তি ফোন ধরে বলেন, ‘তিনি (সামীম আফজাল) বাসায় বিশ্রামে আছেন। সরকারের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনও কথা বলবেন না।’ তবে, ফোন রিসিভকারী নিজের পরিচয় দেননি।

ইফাবা সূত্র জানায়, গত ১০ জুন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগে কেন তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হবে না, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এমন নোটিশের পর থেকেই ইসলামিক ফাউন্ডেশনে সৃষ্টি হয় অচলাবস্থা। তার বিরুদ্ধে ইফা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তিনি গত ১৫ জুন (শনিবার) বন্ধের দিনে আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন অফিস থেকে নথিপত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা তাকে বাধা দেন। পরের দিন ১৬ জুন খোলা থাকলেও অফিসে অফিসে যাননি সামীম আফজাল। ১৭ জুন অফিসে গেলে সামীম আফজালের দফতরের চারপাশে অবস্থা নেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আন্দোলনের মুখে ১৮ জুন (মঙ্গলবার) অসুস্থতাজনিত কারণে ৩ দিনের ছুটির আবেদন জমা দেন সামীম মোহাম্মদ আফজাল।