কাদেরের ‘গরম খবর’ ও ‘সারপ্রাইজ’ কি?

আতাউর রহমান :

বুধবার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনাকালে সাংবাদিকদের গরম খবরের জন্য অপেক্ষায় থাকার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘একটু অপেক্ষা করুন, গরম খবর পাবেন। যখন জানাব তখনই বুঝবেন কী ধরনের খবর।’

ওবায়দুল কাদেরের এই ব্রেকিং নিউজের বক্তব্যেকৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সচেতন মহলেও। ওবায়দুল কাদেরের গরম খবর কী সেটিই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। এ নিয়ে অনেকেই নানা রকম আন্দাজ করছেন। কিন্তু গরম খবরের ক্লু সম্পর্কে কেউ এখনও স্পষ্ট হতে পারেননি। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এটি এখনও গোলক ধাঁধাঁর মতোই রয়ে গেছে। জানা যায়নি গরম খবর।

ওবায়দুল কাদেরের কথায় কেউ কেউ আন্দাজ করেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। কারণ ওবায়দুল কাদের যখন (বুধবার সকালে) সচিবালয়ে ব্রিফ করছিলেন তার কিছু সময় আগে তার সঙ্গে দেখা করেন বিএনপির সংসদ সদস্য ও দলটির যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর রশিদ। তিনি খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তির বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য ওবায়দুল কাদেরকে অনুরোধ করেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে যাওয়ার সময় হারুন অর রশিদ জানান, ওবায়দুল কাদের তাদের অনুরোধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে তাকে আশ্বস্ত করেছেন। এরপর অনেকে ধরে নিয়েছিল, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে একটা রফা হতে চলল। এই বিষয়ে সরকার ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে, ওবায়দুল কাদেরের কথায় সেই ইঙ্গিত ধরে নেয় অনেকে।

কিন্তু সেই ধারণা ভুল প্রমাণ হতে সময় লাগেনি। বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের বৈঠকের পর সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোভাব অনেকটাই অনমনীয় এমন ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে যায়।

বৈঠকের একটি অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে ‘নো কম্প্রোমাইজ’ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এ নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে বেশি কথাবার্তা না বলার নির্দেশনা দিয়েছেন। ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনো উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলবা না। তার (খালেদা জিয়া) বিষয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ নয়।’

বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির এমপিদের অনুরোধের বিষয়টি আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি। তিনি খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘অপেক্ষা করুন, গরম খবর আসছে।’ তবে কী সেই গরম খবর, সে বিষয়ে কিছুই স্পষ্ট করেননি মন্ত্রী। কী ধরনের খবর- সাংবাদিকরা তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কী ধরনের খবর, সেটা বলে দিলে তো হয় না। সময় এলেই জানতে পারবেন।

এরপর সাংবাদিকরা আবারও জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সারপ্রাইজ থাকল।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, চাঁদাবাজ, ক্যাসিনো পরিচালনাকারী ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার হবে।

এরপর অনেকেই ধরে নেন, ঢাকার ক্যাসিনো গডফাদার ইসমাইল হোসেন সম্রাট গ্রেফতার হচ্ছেন, এটিই ওবায়দুল কাদেরর গরম খবর।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের মধ্যে যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি গ্রেফতার হয়েছেন নাকি বিদেশে চলে গেছেন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি তো বলেছি ধৈর্য ধরুন, অপেক্ষা করুন; দেখতে পাবেন।

যেহেতু খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকার অনমনীয় তাই ক্যাসিনো সম্রাটের গ্রেফতার-ই ওবায়দুল কাদেরের গরম খবর বলে অনেকেই অনুমান করছেন। তাহলে সম্রাট কখন গ্রেফতার হচ্ছেন, এটি নিয়েও রয়েছে কৌতুহল।

বুধবার ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা আসবে সে বিষয়েও গরম খবর দেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এবার (ডিসেম্বরের কাউন্সিলে) ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা নেতাদের কমিটিতে স্থান হবে না। যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারা পেতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ পদ। এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত। আর এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিকনির্দেশনা দেবেন বলেও জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জেনেশুনে কাউকে দলে জায়গা দেয়া হয়নি। যারা অপকর্ম করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, মাদক, জুয়া ব্যবসার বিরুদ্ধে যে শুদ্ধি অভিযান চলছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সময়মতো শুরু হবে।

ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যারা চাঁদাবাজি করছে, তাদের কোনো তালিকা আছে কি না- জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে কোনো তালিকা নেই, তবে নজরদারি আছে।