‘ডিস সংযোগ’ ব্যাবসার দিন কি শেষ! যাত্রা শুরু ডিটিএইচ’র

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রচলিত কেবল সংযোগের বিপরীতে গ্রাহকদের আরও ঝকঝকে ছবি দেখাতে ডাইরেক্ট টু হোম (ডিটিএইচ) সেবা চালু করেছে বেক্সিমকো কমিউনিকেশন লিমিটেড।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটলে ‘আকাশ ডিটিএইচ’ সেবার উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

রোববার থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে ‘আকাশ ডিটিএইচ’। কেবল ছাড়া স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের সব ক’টি টিভি চ্যানেলসহ মোট ১১৫টি চ্যানেল পৌছে দেবে গ্রাহকের ড্রয়িংরুমে। এর জন্য গ্রাহকদের প্রতিমাসে গড়ে চার থেকে পাঁচ’শ টাকা গুনতে হবে। ছয়মাস কিংবা এক বছরের সাবস্ক্রিপশন করলে খরচ আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে বেক্সিমকো কমিউনিকেশন লিমিটেড।

‘আকাশ ডিটিএইচ’র হেড অব টেকনোলজি আনোয়ারুল আজিম জানান, এ সেবা পেতে গ্রাহককে স্বীকৃত ডিলারদের কাছ থেকে এককালীন খরচে সেটআপ বক্স, রিমোট কন্ট্রোল ইউনিট, কেবল অ্যান্ড কানেক্টর, ডিশ এন্টেনা ও সিগন্যাল রিসিভার কিনতে হবে। ডিলাররাই বাসায় গিয়ে সব যন্ত্রপাতি সংযুক্ত করে দিয়ে আসবেন।

“কেবল টিভিতে আলাদা তার যুক্ত করতে হবে। সেটি অ্যানালগ সিস্টেম। কিন্তু আমাদের গ্রাহকরা বাসায় বসে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাসায় বসে টিভি দেখতে পারবেন। এর মাঝে আর কোনো মিডিয়া নেই। ফলে ছবি দেখা যাবে একদম ঝকঝকে।”

কেবল ছাড়া বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এ উন্নত সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

আনোয়ারুল আজিম বলেন, “কেবল নয়, আমাদের মিডিয়া স্যাটেলাইট। আমরা বন্ধবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে ট্রান্সপন্ডার লিজ নিয়ে সেখান থেকে দর্শকদের দেখার ব্যবস্থা করছি।”
এছাড়াও গ্রোগ্রাম রিমাইন্ডার, টিভি শিডিউল সেবা পাবেন গ্রাহকরা। শতাধিক চ্যানেলে ভিড়ে চাইলে নিজের প্রিয় চ্যানেলগুলোর তালিকাও তৈরি করতে পারেন তারা। আগামীতে প্রাইভেট ভিডিও রেকর্ডিং সেবা চালুর কথাও বললেন আনোয়ারুল আজিম। “এর মাধ্যমে যে কোনো টিভি চ্যানেলে অনুষ্ঠান রেকর্ড করে রাখা যাবে।”

প্রাথমিকভাবে মাসিক চার্জ বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। পরবর্তীতে অন্য পেমেন্ট চ্যানেল রকেট ক্রেডিট কার্ডও যুক্ত করা হবে।

কেবল সংযোগের চেয়েও দ্রুতগতিতে ‘ডিটিএইচ’ প্রযুক্তিতে ছবি ও শব্দ আসে। ভারতে এ প্রযুক্তি ইতোমধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। টাটা স্কাই, রিলায়েন্সসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই সেবা দিচ্ছে। বাংলাদেশে এই সেবা যাত্রা করে বেক্সিমকো মিডিয়া লিমিডেটের হাত ধরেই। কয়েক বছর আগে ‘রিয়েল ভিউ’ নামে ডিটিএইচ সেবা চালু করার কিছুদিন পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি জানালেন, নতুন মার্কেট বোঝার জন্য ‘রিয়েল ভিউ’ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা আর চালু রাখা হয়নি। রিয়েল ভিউ’র অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুনভাবে দর্শকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবার আনা হলো ‘আকাশ’।

কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনোয়ার পারভেজ জানান, দেশজুড়ে কেবল টিভির ৭৫ থেকে ১৫০ টাকায় ২০০ মতো টিভি চ্যানেল দেখতে পান গ্রাহকরা। তার বিপরীতে ‘ডিটিএইচ’ ব্যয়বহুল কি না?

“এটি কিন্তু প্রোডাক্টের কারণে। আমরা খুব হাই-কোয়ালিটির পণ্য দিচ্ছি। বাংলাদেশের মানুষ ভালো কিছু পেলে ১-২ শ’ টাকা খরচ করেও দেখে। সেই ক্ষেত্রে এই মূল্যটা কমালে আমাদের গুণগত মান কমে যাবে। তাহলে কেবল অপারেটরদের চেয়ে আমরা আলাদা হতে পারব না।”, বলেন আনোয়ারুল আজিম।

তবে গ্রাহকদের সাধ ও সাধ্যের কথা বিবেচনায় রেখে আগামীতে চ্যানেলপ্রতি সাবস্ক্রিপশন ফি’র ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনার কথা শোনালেন তিনি।

“এতে এক’শ টিভি চ্যানেলে মধ্যে সবগুলোই প্রত্যেকে দেখবে না। সেক্ষেত্রে কেউ ২০টি চ্যানেল দেখলে শুধু সেই নির্দিষ্ট সংখ্যক চ্যানেলের ফি পরিশোধ করতে হবে। এতে গ্রাহকদের খরচ অনেক কমে আসবে।”

ডিটিএইচ কেবল অপারেটরদের জন্য হুমকি নয়: কোয়াব

ডিটিএইচ প্রযুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনোয়ার পারভেজ বলেন, “আমরা এটা নিয়ে চিন্তিত না। প্রযুক্তিকে আটকিয়ে রাখা যায় না।”

কেবল টিভি ও ডিটিএইচকে আলাদা দুটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আখ্যায়িত করে কোয়াব নেতা বললেন, এই প্রযুক্তি কেবল অপারেটরদের জন্য হুমকি নয়।

“ডিটিএইচের প্ল্যাটফর্ম স্যাটেলাইট। আর আমাদের প্ল্যাটফর্ম ফাইবার অপটিক। আমাদের ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ডিটিএইচের চেয়েও দ্রুত। আবহাওয়া খারাপ হলে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারে বিঘ্ন হতে পারে কিন্তু কেবল টিভিতে এটা হবে না।”